ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজনীতি। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)—এই মুখোমুখি লড়াইয়ের আবহেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে বামেদের ভরসা তরুণ আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস (Srijib Biswas)।
পেশায় আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস বাম রাজনীতির পরিচিত মুখ হলেও নির্বাচনী ময়দানে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীর হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভবানীপুর উপনির্বাচনেও তাঁকেই প্রার্থী করেছিল বামফ্রন্ট।
সেই উপনির্বাচনে প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন শ্রীজীব। যদিও ফলাফলের নিরিখে বড় সাফল্য আসেনি, তবুও সংগঠনের ভিতরে তাঁর সক্রিয়তা এবং ধারাবাহিক উপস্থিতির জন্যই আবারও তাঁকে এই কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভবানীপুর কেন্দ্র এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মমতা-শুভেন্দু লড়াইয়ের কারণে। এই প্রেক্ষাপটে সিপিআইএমের তরুণ প্রার্থী তুলে ধরা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বদলে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার প্রবণতা এবারের প্রার্থী তালিকায় স্পষ্ট।
বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে একাধিক কেন্দ্রে নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বালিগঞ্জে আফরিন বেগম এবং নন্দীগ্রামে শান্তি গিরির মতো নাম সেই তালিকায় রয়েছে। একইসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারে সমরেন্দ্রনাথ নাইয়াকেও প্রার্থী করা হয়েছে।
তবে এই তালিকার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, বামেদের শীর্ষ সারির একাধিক নেতা এবারে প্রার্থী তালিকায় নেই। মহম্মদ সেলিম, শতরূপ ঘোষ কিংবা সৃজন ভট্টাচার্য-র মতো নেতাদের অনুপস্থিতি নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে শ্রীজীব বিশ্বাসকে প্রার্থী করে তরুণ নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখার বার্তা দিল বামেরা। তবে হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে তাঁর লড়াই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।





