স্মার্টফোনের দাম লাগামছাড়া হারে বাড়তে থাকায় চাপে সাধারণ ক্রেতা। নির্মাতা সংস্থাগুলির দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ র্যাম ও স্টোরেজের ঘাটতি। সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারদরে। এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই পরিস্থিতি ২০৩০ সাল পর্যন্তও চলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় Google। গ্যাজেট বিশ্লেষকদের মতে, সংস্থাটি ‘টার্বো কোয়ান্টাম’ নামে একটি বিশেষ অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যা র্যামের ব্যবহারকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারে।
জানা যাচ্ছে, এই প্রযুক্তি ডিভাইসের র্যামের উপর চাপ কমাতে সক্ষম। প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত র্যামের ক্যাশ পার্টিশন কমিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রায় ২০ শতাংশ তথ্য রেখে বাকি অংশ নিজে থেকেই মুছে ফেলতে পারে এই অ্যালগরিদম। ফলে অপ্রয়োজনীয় ডেটা জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
বিশ্লেষকদের দাবি, এই পদ্ধতি ব্যবহারে র্যামের কার্যক্ষমতা প্রায় আট গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি, ডিভাইস চলাকালীন র্যামের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে—প্রায় ছ’গুণ পর্যন্ত। অর্থাৎ কম র্যাম দিয়েও তুলনামূলক বেশি পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান বাজারে যেখানে ১০-১৫ হাজার টাকার ফোনে মাত্র ৪ জিবি র্যাম এবং সীমিত স্টোরেজ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এই প্রযুক্তি বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কম রিসোর্সে বেশি কাজ করা গেলে উচ্চ ক্ষমতার র্যামের চাহিদাও কিছুটা কমবে। তার প্রভাব পড়তে পারে উৎপাদন খরচে এবং শেষ পর্যন্ত বাজারদরেও।
তবে এই প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকরী হবে এবং কবে নাগাদ সাধারণ স্মার্টফোনে তা দেখা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবুও প্রযুক্তি মহলের একাংশ আশাবাদী—যদি ‘টার্বো কোয়ান্টাম’ প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে ভবিষ্যতে তুলনামূলক কম দামে আরও শক্তিশালী স্মার্টফোন হাতে পেতে পারেন ব্যবহারকারীরা।








