মহিলাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নারী হেনস্তার ঘটনায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। রাস্তাঘাটে মহিলাদের উত্যক্ত করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড’-এর কাজ।

বৈঠকে মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নারীসুরক্ষা ও কন্যাদের নিরাপত্তা প্রদান সরকারের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভয়া থেকে অভয়া যে তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি, তাই তাদের সুরক্ষা প্রদান করব এবং সুবিচার দেব।”

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৫০০ থানায় ২৪ ঘণ্টার মহিলা হেল্পডেস্ক চালু করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা দায়িত্বে থাকবেন। শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনায় প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে।
এর পাশাপাশি মহিলা নিরাপত্তার জন্য চালু হয়েছে ‘দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড’। মোটরবাইকে টহল দেবেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। রাস্তায় কোনও নারীকে উত্যক্ত করা হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়াই হবে এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব।
সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। বসিরহাট, বনগাঁ এবং বারাসত প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে অত্যাধুনিক মোটরবাইক মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রিয়েল টাইম অডিও-ভিডিয়ো ট্রান্সমিশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে ঘটনাস্থলের সরাসরি তথ্য নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যায়।
নারী নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সাইবার অপরাধ মহামারীর আকার ধারণ করেছে। সামাজিক প্রকল্পে যাঁরা ফর্ম ফিলআপ করছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টাকা দ্রুত হাত বদল হয়ে চলে যাচ্ছে। আমি প্রতি সপ্তাহে ‘জনতার দরবার’ করি। বয়স্ক, অশীতিপর মানুষেরা হাতে লাঠি নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে আসেন। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটির টাকা রেখেছিলাম বলেন। তাঁদের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। সাইবার অপরাধ রোখে কেন্দ্র ও রাজ্য এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পুলিশদের প্রশিক্ষণ দেবে। সাইবার অপরাধ রোধে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের প্রতিটি থানায় সাইবার হেল্পডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রতারণার পর দ্রুত, অর্থাৎ ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে অভিযোগ জানানো গেলে টাকা উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা মোকাবিলার জন্যও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বর এবং ‘সহযোগ’ পোর্টালও চালু রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশকে নিয়ম মেনে নির্ভয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনও পুলিশকর্মীর উপর হামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








