পশ্চিমবঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সুরক্ষা ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর পর রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগ যুবসাথী ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে। এরই মধ্যে মাথাভাঙার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—এই প্রকল্প কেবল ভাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, চাকরির পথও তৈরি করা হবে।
সভামঞ্চ থেকে মমতার বক্তব্য, “যুবসাথীতে যাঁরা অ্যাপ্লিকেশন দেবেন, তাঁদের চাকরির ব্যাপারটাও আমরা দেখব। আপনারা রেশন পান কি পান না? বলেছিলাম, মহিলা অভিভাবককে দায়িত্বে রেখে ৫ লক্ষ টা কার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হবে। পেয়েছেন কি না? ছেলেমেয়েরা সাইকেল, মিড ডে মিল, স্মার্ট ফোন, স্কুল ড্রেস পায় কি পায় না? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সারাজীবন থাকবে। তাই তৃণমূল সরকার দরকার। যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাদের দেরি হচ্ছে, তাঁরাও পাবেন। তাঁদের কাজের ব্যবস্থাও আমরা করব।”
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই কয়েক কোটি ছুঁইছুঁই। বিপুল আবেদন যাচাইয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দেরি হচ্ছে সুবিধা পৌঁছতে। তবে প্রশাসনের দাবি, ধাপে ধাপে সকল যোগ্য আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। এই আর্থিক সহায়তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত—যেটি আগে হবে—চলবে। আবেদন করতে হলে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকা এবং ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ করা বাধ্যতামূলক।
রাজ্যের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ যুবক-যুবতী বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। ‘যুবসাথী’-র মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক যুবককে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতেই পাল্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের তরফে প্রকাশিত সংকল্প পত্রে জানানো হয়েছে, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে।
ফলে স্পষ্ট, রাজ্যে বেকারত্ব ইস্যু এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ভাতা বনাম কর্মসংস্থান—কোন প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের বেশি আকৃষ্ট করে, সেটাই দেখার।







