এক ঝলকে যেন জীবন্ত শরৎচন্দ্র! টোটার নতুন ছবির লুক দেখে অবাক নেটদুনিয়া

On: Wednesday, June 3, 2026 9:27 PM
---Advertisement---

বাংলা সিনেমায় চরিত্র বদলের চমক নতুন নয়। তবে একদিকে আধুনিক বাঙালির প্রিয় গোয়েন্দা, অন্যদিকে বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাশিল্পী— এই দুই মেরুর মধ্যে যাতায়াত খুব একটা দেখা যায় না। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করতে চলেছেন টোটা রায়চৌধুরী। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এ তাঁকে দেখা যাবে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায়।

বুধবার প্রকাশ্যে এসেছে ছবির প্রথম ঝলক। সেখানে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, কপালের কাছে আঁচড়ানো সাদা চুল এবং গম্ভীর অভিব্যক্তিতে লেখার টেবিলে বসে থাকা টোটাকে দেখে অনেকেই প্রথম নজরে চিনতেই পারেননি। সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই ছবিটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।

এই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবি’। চলতি বছর উপন্যাসটির প্রকাশের ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখেই ছবির পরিকল্পনা করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাস এবং তার প্রভাবই ছবির অন্যতম প্রধান বিষয়।

শরৎচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে টোটা জানিয়েছেন, একদিন সকালে পরিচালক তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, “তোমার আদল অনেকটা শরৎচন্দ্রের মতো, সেটা কি তুমি জান?” সেই কথাতেই শুরু হয়েছিল নতুন চরিত্র হয়ে ওঠার যাত্রা। পরে লুক টেস্ট এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে কথাশিল্পীর চেহারা ধারণ করেন তিনি।

অভিনেতার কথায়, “আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হয়েছিল, যতটা আদল আনা সম্ভব, ততটাই এনেছেন সোমনাথদা।”

তবে শুধু চেহারার পরিবর্তনই নয়, চরিত্রটির গুরুত্ব নিয়েও উচ্ছ্বসিত টোটা। তাঁর মতে, অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা চরিত্র এটি। তিনি বলেন, “আমার অভিনীত সমস্ত চরিত্রের মধ্যে এটা সেরা। অভিনয় জীবনের প্রথম পালাবদল ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে। ওঁর ‘চোখের বালি’ ছবির ‘বিহারী’ হয়ে। সেই বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ করলেন সৃজিত।”

রাজনৈতিক আবহের এই ছবিতে কাজ করলেও বাস্তব রাজনীতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অভিনেতা। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর বক্তব্য, “আমি রাজনীতির থেকেও কাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমার কাজ অভিনয়। সেটা যেন মন দিয়ে করে যেতে পারি, এটাই প্রার্থনা।”

চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য আলাদা কোনও মহড়া বা নতুন করে শরৎচন্দ্রের সাহিত্য পাঠে ডুব দেননি বলেও জানিয়েছেন টোটা। বরং পরিচালকের ভাবনা এবং চরিত্র নির্মাণের উপরেই ভরসা রেখেছেন তিনি।

প্রথম লুক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নজর কেড়েছে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন টোটার এই আমূল রূপান্তর দেখে। জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র থেকে বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী স্রষ্টা— এই যাত্রা কতটা সফল হয়, তার উত্তর মিলবে ছবি মুক্তির পর। তবে প্রথম ঝলকেই যে কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছে ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’, তা বলাই যায়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now