সমাজমাধ্যমে প্রায়শই সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁর মেয়েকে। কিন্তু মা হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন কাজল—তাঁর চোখে নিসা এবং যুগ দেবগনই সেরা। তবে এই দৃঢ় অবস্থানের পিছনে রয়েছে এক কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা, যা খুব সহজ ছিল না।
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এক সময় তাঁর সঙ্গে মেয়ে নিসা দেবগন-এর সম্পর্ক বেশ টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে নিসা কিশোরী বয়সে পা দেওয়ার পর থেকেই মতবিরোধ বাড়তে থাকে। কাজলের কথায়, “কিশোরী অবস্থা থেকে যেই যৌবনের দিকে পা বাড়াতে শুরু করে নিসা, আমার সঙ্গে কথায় কথায় মতবিরোধ হত। ওকে বুঝতে পারতাম না। দু’জনেই ঝগড়া করেছি। প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে ওর দিকটা বুঝতে।”
প্রজন্মের ফারাকও এই দূরত্বের অন্যতম কারণ ছিল বলে মনে করেন অভিনেত্রী। ‘জেন জ়ি’ প্রজন্মের ভাবনাচিন্তা এবং নিজস্ব মতপ্রকাশের ধরণ অনেকটাই আলাদা—যা প্রথম দিকে মেনে নেওয়া সহজ ছিল না তাঁর কাছে।
তবে সম্পর্কের টানাপড়েন মেটাতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেন কাজল নিজেই। তিনি বলেন, “প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমার আরও যুক্তিবাদী হওয়া উচিত। ঝগড়া না করে ওর সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিই। যত ক্ষণ না নিসা আমার কথা শোনা শুরু করে, তত ক্ষণ আমি চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। ঝগড়ার জায়গা নেয় কথোপকথন। কাজল বুঝতে পারেন, শুধুমাত্র উপদেশ দিয়ে নয়, বরং সন্তানের কথা মন দিয়ে শোনা আরও বেশি জরুরি। তাঁর কথায়, “ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়াল যে, আমি মেয়ের পাশে বসে ওর কথা শুনতাম। ওকে কথা বলার এবং ওর কথাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিই। সেটাই আমাদের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছিল।”
এই অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের বড় শিক্ষা বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। সম্পর্কের জট খুলতে কখনও কখনও এক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে শোনার জায়গা তৈরি করাই যে সবচেয়ে কার্যকর, সেই বার্তাই যেন দিলেন কাজল।








