রাজ্যে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার নতুন অধ্যায় শুরু হল বুধবার থেকে। সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় প্রথম দফায় উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো শুরু হয়েছে। নবান্ন থেকে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে অনলাইন আবেদন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও।
বর্তমান রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বতন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু নাম নয়, আর্থিক সহায়তার পরিমাণও বাড়িয়ে মাসিক ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্প নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে মঙ্গলবার মুখ খুললেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
তিনি জানান, প্রথমে সরাসরি অর্থ পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে বহু ভুয়ো উপভোক্তার তথ্য সামনে আসে। সেই কারণেই নতুন করে আবেদনপত্র গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রথমে পরিকল্পনা ছিল সরাসরি টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল লক্ষ লক্ষ ভুয়ো প্রাপক। তাই নতুন করে ফর্ম নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
সরকারের দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতেই এই পদক্ষেপ। বুধবার থেকে অনলাইনেও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি কর্মীরাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, যে সমস্ত যোগ্য মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে এই সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।”
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ২৭ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে নতুন করে কতজনের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছল, সেই তথ্যও প্রকাশ করা হবে।
নতুন আবেদনপত্র নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় এবার পরিবারের অতিরিক্ত কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আবেদনপত্র জটিল নয়, বরং তথ্য যাচাইকে আরও স্বচ্ছ করতেই এই ব্যবস্থা।
সরকারের আরও দাবি, যাঁদের নাম নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি বা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা করে যাচাই করা হবে। তবে ভুয়ো পরিচয়, ভুল বয়স বা ভুল তথ্য দিয়ে কেউ যাতে সরকারি সুবিধা না নিতে পারেন, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা— দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিসরে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিল প্রশাসন।
এখন নজর থাকবে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কতজন নতুন আবেদনকারী এই প্রকল্পের আওতায় আসেন এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় তার দিকে।






