রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া বইতেই এবার দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রয়াত অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পাল। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যেতেই টলিউড থেকে রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়েছে নতুন তরজা। আর সেই আবহেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার’ গুরুতর অভিযোগ আনলেন নন্দিনী।
১৯৯৭ সাল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মও হয়নি, তখন থেকেই মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন তাপস পাল। সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে নন্দিনী জানান, বাম জমানার দাপটের মুখে যখন টলিউডের কোনও তারকা দিদির পাশে দাঁড়াতে সাহস পাচ্ছিলেন না, তখন বারংবার তাঁদের বাড়িতে এসে অনুরোধ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু আজ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের লগ্নে নন্দিনীর গলায় কেবলই বঞ্চনার সুর। তাঁর কথায়, “তাপস ধান্ধাবাজ মানুষ ছিল না। ওর একটাই সমস্যা ছিল, কোনও কিছু মাথা দিয়ে চালনা করত না, সবটাই অন্তর দিয়ে ভাবত। তাই মাসুল গুনতে হয়েছে।”
নন্দিনীর দাবি, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তাপসকে অনেক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। বাম জমানায় তাঁর ছবি সিনেমা হলে চলতে দেওয়া হতো না। অথচ যে দলের জন্য তিনি প্রাণ দিয়ে কাজ করলেন, সেই দলই শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকেনি। এমনকি চিটফান্ড কাণ্ড নিয়েও মুখ খুলেছেন নন্দিনী। তাঁর অভিযোগ, “ক্ষমতায় আসার পরে দিদি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান। তখন তাপসের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় ওঁর কাছে। চিটফান্ডের কোনও টাকা আত্মসাৎ করেনি তাপস। পরিস্থিতির শিকার হয় ও।”
চৌমুহার বিতর্কিত মন্তব্য তাপসের জীবনের বড় ভুল ছিল বলে মেনে নিলেও, নন্দিনী মনে করেন অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক কুৎসা রটানো হয়েছিল। তাঁর সবথেকে বড় আক্ষেপ, জীবনের শেষ দিনগুলোতে একবার কথা বলতে চাইলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন তোলেননি। দলনেত্রীর শাসনকালকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত দিন রাজ্য চালানো হচ্ছিল না, একটা ক্লাব চালানো হচ্ছিল। দিদি আর দল তাপসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। দিদি যে ভাবে রাজ্য শাসন করলেন, তার থেকে বামফ্রন্ট শাসন ভাল ছিল, এমনকি ইংরেজ শাসনও ভাল ছিল। ব্যবহার করে তাপসকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন দিদি।”
তিলোত্তমায় যখন ক্ষমতার হাতবদল ঘটছে, তখন নন্দিনী পালের এই বিস্ফোরক দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই পরিবর্তন যে একান্ত জরুরি ছিল, তা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই তাঁর মনে। এখন দেখার, নন্দিনীর এই আক্রমণের প্রেক্ষিতে বিদায়ী শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না।








