অবসর জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের খোঁজে থাকেন অধিকাংশ মানুষ। সেই চাহিদাকেই সামনে রেখে জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম। পোস্ট অফিস পরিচালিত এই প্রকল্পে নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট সুদ এবং নিয়মিত আয়ের সুবিধা—তিনের সমন্বয়েই আগ্রহ বাড়ছে প্রবীণদের মধ্যে।
এই স্কিমের অন্যতম আকর্ষণ হল উচ্চ সুদের হার। বর্তমানে বছরে ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ স্থায়ী আমানতের তুলনায় বেশি বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই বিনিয়োগ পুরোপুরি সরকারি গ্যারান্টির আওতায় থাকে, ফলে ঝুঁকি কার্যত নেই বললেই চলে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও রয়েছে নমনীয়তা। ন্যূনতম ১,০০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আয়কর আইনের ৮০সি ধারার আওতায় ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করছাড়ও পাওয়া যায়, যা এই স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
যোগ্যতার নিরিখে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী যৌথ অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাবসর নেওয়া ৫৫ বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা এবং নির্দিষ্ট শর্তে প্রতিরক্ষা কর্মীরাও এই সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর, যা পরবর্তীতে আরও ৩ বছরের জন্য বাড়ানো সম্ভব। বিনিয়োগকারীদের প্রতি তিন মাস অন্তর সুদ দেওয়া হয়, ফলে নিয়মিত আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে টাকা তুলে নিলে জরিমানার বিধান রয়েছে।
আয়ের নিরিখে এই প্রকল্পের কার্যকারিতাও উল্লেখযোগ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি তিন মাসে প্রায় ৫১ হাজার টাকার মতো সুদ পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ মাসিক হিসেবে গড়ে প্রায় ১৭ হাজার টাকার স্থায়ী আয় নিশ্চিত করা যায়।







