বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা— পরাজয়ের পরে কোন পথে হাঁটবেন অভিনেত্রী তথা বরাহনগরের প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়? নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখালেও ফলাফলের পরে বাস্তব অনেকটাই বদলেছে। তবে আপাতত রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে নিজের পুরনো পরিচয়— অভিনয়কেই ফের প্রাধান্য দিতে চাইছেন তিনি।
ভোটপর্বের পর গত কয়েক দিন শারীরিকভাবেও অসুস্থ ছিলেন সায়ন্তিকা। জ্বরে ভুগলেও এখন অনেকটাই সুস্থ বলে জানিয়েছেন। পরাজয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রীর গলায় শোনা গেল আক্ষেপের সুর। তিনি বলেন, “একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। মনখারাপ ঠিক নয়। হয়তো আমার থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল মানুষের। আমিই হয়তো সাধারণের আশা পূরণ করতে পারিনি। তবে চেষ্টা করিনি, এমন বলব না। আমি চেয়েছিলাম নিজের সবটা দিয়ে কাজ করতে। সেটাই করেছি অনবরত।”
ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক জগত থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। সাংসদ দেবও রাজনীতিতে অতিরিক্ত সক্রিয় থাকতে অনীহার কথা বলেছেন। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, সায়ন্তিকাও কি একই পথে হাঁটতে চলেছেন?
যদিও এই মুহূর্তে রাজনীতি ছাড়ার মতো কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করতে চান না তিনি। বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ সায়ন্তিকা। তাঁর কথায়, “আমি সরাসরি এমন কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আগামী দিনে কী করব? এখন থেকে তো বলতে পারি না। কিন্তু আমার যে পেশা অভিনয়, সেটাতে মন দিতে চাই। তার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই।”
গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক কাজের জন্য নিজের শরীরচর্চা এবং অভিনয় প্রস্তুতিতে ফাঁক পড়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। এখন আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সায়ন্তিকার কথায়, “নিজের শারীরিক গঠন ঠিক করতে চাই। আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে চাই।”
বরাহনগরের নতুন বিধায়ক সজল ঘোষকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান কি না, সেই প্রশ্নেও কৌশলী থেকেছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনমতের ভিত্তিতেই নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, তাই এ নিয়ে তাঁর আলাদা করে কিছু বলার নেই।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— রাজনৈতিক ধাক্কা সত্ত্বেও থেমে থাকতে চাইছেন না সায়ন্তিকা। তাঁর কথায়, “জীবন তো থেমে যাবে না। এই পরাজয় মানে জীবন শেষ হয়ে গেল, সেটা তো নয়। আমার যে পেশা, যার সূত্রে আমার পরিচিতি— সেই দিকেই মন দিতে চাই।”








