আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে যে আন্দোলন রাজ্য-রাজনীতিকে দীর্ঘ দিন আলোড়িত করেছে, সেই ঘটনাই এ বার উঠে আসতে চলেছে বড় পর্দায়। টালিগঞ্জে তৈরি হতে চলা নতুন ছবি ‘অভয়া শক্তি’-র ঘোষণা করে এমনটাই জানালেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। ছবির পরিচালনার দায়িত্বও তাঁর হাতেই।
বুধবার ছবির কথা প্রকাশ্যে এনে শঙ্কুদেব দাবি করেন, আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে এখনও এমন অনেক তথ্য সামনে আসছে, যা সাধারণ মানুষ আগে জানতেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আরজি কর নিয়ে এখন আরও বহু নতুন তথ্য সামনে আসছে। সে সব কেউই জানতে পারেননি আগে। সব দেখাব ছবিতে। এটা তো শুধু ছবি নয়। এটা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হবে।’’
ছবির নামেই রাখা হয়েছে নির্যাতিতা চিকিৎসকের স্মৃতির প্রতি ইঙ্গিত। ‘অভয়া শক্তি’ নামের এই ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা আগামী অগস্ট মাসে। প্রযোজক রানা সরকারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বাস্তব লোকেশনেও শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রেই দেখানো হবে ঘটনার আসল জায়গা।’’
তবে ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম এখনও প্রকাশ্যে আনতে চাননি পরিচালক। শুধু জানিয়েছেন, কলকাতার পরিচিত মুখের পাশাপাশি শহরের বাইরের শিল্পীরাও থাকবেন এই প্রজেক্টে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ছবির ঘোষণা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, আরজি কর-কাণ্ড শুধু একটি অপরাধের ঘটনা ছিল না, তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশেও বড় প্রভাব ফেলেছিল। সেই আবহেই ছবি তৈরির সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠছে।
টলিউডের কাজকর্ম ও শিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও মুখ খুলেছেন শঙ্কুদেব। তাঁর দাবি, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনও শিল্পীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নতুন সরকারের আমলে এমন কিছু আর হবে না। কেউ কাজ পাবেন, বা কোনও দলের কাছের লোক না হলে কাজ পাবেন না, এমন হবে না। সকলের কাজ পাওয়ার অধিকার আছে।’’
ছবিটিকে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেখা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে শঙ্কুদেবের বক্তব্য, সিনেমা সমাজ ও সময়কে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর কথায়, ‘‘চলচ্চিত্র হল বক্তব্য রাখার জায়গা। আমি এ ভাবেই বক্তব্য রাখছি।’’
প্রযোজক রানা সরকারেরও মত, এই বিষয় নিয়ে ছবি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের পরে শঙ্কুদেব এই ছবির ভাবনা আমার কাছে নিয়ে আসে। তবে বলতে বাধা নেই, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার এসেছে বলেই এই ছবি প্রযোজনা করার সাহস পেয়েছি। কিন্তু এই ছবি আগেই হওয়া উচিত ছিল। এমন আরও ছবি হওয়া দরকার।’’
আরজি কর আন্দোলনের সময়ে যাঁরা সরব হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তী সময়ে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে টলিপাড়ায় আলোচনা রয়েছে। তবে সেই শিল্পীদের এই ছবিতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনও ইঙ্গিত দিতে নারাজ পরিচালক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘ছবির চরিত্র যাঁকে দাবি করবে, সেই অভিনেতাকেই দেখা যাবে।’’
রাজনীতি, প্রতিবাদ এবং এক বহুচর্চিত ঘটনার স্মৃতি— এই তিনের সংমিশ্রণে ‘অভয়া শক্তি’ মুক্তির আগেই যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা বলাই যায়।








