২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর এই মেগা লড়াইয়ে ময়দান কাঁপাতে একঝাঁক ‘স্টার’ মুখকে সামনে আনল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে ৪০ জন তারকা প্রচারকের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার ভার রয়েছে, তেমনই রয়েছে নতুন প্রজন্মের ঝলক।
তালিকায় নব্য-নবীনের ভারসাম্য
তৃণমূলের এই হেভিওয়েট তালিকার একদম শুরুতেই প্রত্যাশিতভাবে নাম রয়েছে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে প্রতীক-উর রহমানের নাম। দলে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচনী প্রচারের মুখ হিসেবে তাঁর জায়গা পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়াও তালিকায় গ্ল্যামার ও রাজনীতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং মেগাস্টার দেব। বাদ যাননি দেবাংশু ভট্টাচার্য, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনকি অনুব্রত মণ্ডলের মতো পরিচিত মুখও।
দিল্লির সরকারকে হঠানোর ডাক মমতার
তালিকায় নাম থাকা মাত্রই প্রচারের ময়দানে ঝড় তুলেছেন নেত্রী নিজে। শনিবার মালদহ ও মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং অফিসার বদলি নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি। মালদহ থেকে হুঙ্কার ছেড়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন:
“এই সরকার দিল্লিতে আর নেই দরকার। আগে পরিবর্তন করতে হবে। যাঁদের নাম কেটেছে, দলীয় নেতাদের অনুরোধ করব, শুধু প্রচার করলে হবে না। এটাও বড় কাজ। দিল্লি থেকে লোকেরা দেখে দেখে সংখ্যালঘু, তফসিলি, জনজাতিদের ভোট বাদ দিয়েছে। বিজেপি কোনও ধর্মে বিশ্বাস করে না। ওদের ধর্ম একটাই, মানুষ মারার ধর্ম। অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, এখানে দাঁড়িয়ে সভা করে যাঁদের নাম কেটেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফোন করে নির্দেশ দেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদে ভোট কাটুন। আমার কেন্দ্রেও ভোট কেটে দিয়েছে ৪০ হাজার। সব অফিসারদের বদলে দিয়েছে। ৫ রাজ্যে ভোট হচ্ছে। ৫০০ অফিসার বদলেছে। বাংলাতেই বদলেছে ৪০০ জনকে।’’
প্রার্থী তালিকাতেও বড় রদবদল
উল্লেখ্য, প্রচারের পাশাপাশি এবারের প্রার্থী তালিকাতেও তৃণমূল বেশ কিছু রদবদল এনেছে। নেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাঁরা এবার টিকিট পাননি, তাঁদের দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হবে। হেভিওয়েট লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; তিনি দাঁড়াচ্ছেন তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। বেলেঘাটা কেন্দ্র থেকে এবার লড়ছেন কুণাল ঘোষ। তবে পুরনো ঘাঁটির ওপর আস্থা রেখে ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং অরূপ বিশ্বাসের মতো প্রবীণ মন্ত্রীদের তাঁদের পরিচিত কেন্দ্রেই প্রার্থী করেছে জোড়াফুল শিবির।
সব মিলিয়ে, নতুন মুখদের বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে এবং পুরনো সৈনিকদের অভিজ্ঞতায় ভর করেই ২০২৬-এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। এখন দেখার, ৪০ জনের এই ‘স্টার’ ব্রিগেড ভোটারদের মন কতটা জয় করতে পারে।







