দেশের কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষায় কেন্দ্রের অন্যতম বড় উদ্যোগ Pradhan Mantri Kisan Samman Nidhi Yojana আবারও চর্চায়। সাম্প্রতিক পদক্ষেপে প্রকল্পের আওতায় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার জেরে বহু নতুন কৃষক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকা খতিয়ে দেখে এক কোটিরও বেশি অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় এখন যোগ্য নতুন আবেদনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে এতদিন যাঁরা নানা কারণে এই প্রকল্পের বাইরে ছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে দরজা খুলেছে।
এই প্রকল্পে বছরে মোট ৬,০০০ টাকা দেওয়া হয়, যা তিনটি কিস্তিতে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। ইতিমধ্যেই ২২টি কিস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। ২১তম কিস্তিতে প্রায় ৯.৩৫ কোটি কৃষক উপকৃত হলেও, সর্বশেষ কিস্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে ৯.৪৫ কোটিরও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক নতুন নাম যুক্ত হয়েছে তালিকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রকল্পটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গনার কৃষকদের জন্য এটি এখন বড় সুযোগ। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশে ‘অন্নদাতা সুখীভব’ প্রকল্পের সুবিধাও নেওয়া যেতে পারে।
গত ১৩ মার্চ ২২তম কিস্তির টাকা ছাড়া হয়েছে। পরবর্তী কিস্তি জুলাই মাসে আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও সরকারিভাবে এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তাই মে-জুন মাসকে আবেদন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় বলেই মনে করা হচ্ছে।
আবেদন প্রক্রিয়াও এখন অনেকটাই সহজ। অনলাইনে সরকারি পোর্টালে গিয়ে ‘Farmer’s Corner’ থেকে নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্কের তথ্য ও জমির নথি জমা দিলেই প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি অফলাইনে নির্দিষ্ট পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়েও নিবন্ধন করা সম্ভব।
তবে আবেদন করলেই কাজ শেষ নয়। ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি স্ট্যাটাস আইডি দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে আবেদনটির অগ্রগতি যাচাই করা যায়। সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, “যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত আবেদন করা উচিত। কারণ সময়মতো নথিভুক্ত হতে পারলে আগামী কিস্তি থেকেই নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব।”
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে প্রকল্পের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনই আরও বেশি কৃষকের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছনোর পথও প্রশস্ত হচ্ছে।







