প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক জীবনে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে নতুন এক মাইলফলক। দেশের কোনও নির্বাচিত কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের প্রধান হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার নজির গড়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সমর্থক মহলে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, তেমনই বিনোদন জগতের একাংশও প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
সেই তালিকায় এ বার নতুন করে আলোচনায় অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। নিজের নতুন ছবি মুক্তির দিনেই তিনি পৌঁছে গেলেন রাজস্থানের জোধপুরে এক গণেশ মন্দিরে। সেখানে বিশেষ পুজো দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।
মন্দিরে যাওয়ার সময় কঙ্গনার পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পাটোলা শাড়ি। পুজো শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তিনি এই নজির গড়তে পেরেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করতেই পুজো দিতে এসেছি।”
View this post on Instagram
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন কঙ্গনা। তাঁর দাবি, মোদীর নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি তিনি দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। কঙ্গনার মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দলের কর্মীরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে যখন নানা মূল্যায়ন চলছে, তখন শিল্পী মহলের একাংশও প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেছেন। অভিনেত্রী নীতু চন্দ্র মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে নারীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গায়ক অনুপ জলোটাও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় সরব হয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী এত দীর্ঘ সময় এই পদে ছিলেন না। ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেহরুজিও এত দিন ছিলেন না। মোদীজি নেহরুজির চেয়েও বেশি সময় এই দায়িত্বে রয়েছেন। আমি চাই, মোদীজি স্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকুন। আমি অন্য কাউকে চাই না। আমি চাই তিনি সব সময়ে থাকুন। তিনি দেশের অনেক উন্নতি করেছেন।”
তবে রাজনৈতিক ময়দানে কঙ্গনার পথচলা নিয়ে অন্য আলোচনাও রয়েছে। হিমাচল প্রদেশের মন্ডি লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সংসদে পৌঁছেছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির জগৎ যে তাঁর কাছে সব সময় স্বস্তির নয়, তা একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে নিয়ে প্রায়ই সংশয়ে ভোগেন। তা সত্ত্বেও দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে এবং সাংসদ হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন কঙ্গনা।
প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ইনিংস নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন কঙ্গনার এই মন্দির-যাত্রা এবং প্রকাশ্য সমর্থন নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।








