পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ভারতে, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর?

On: Friday, March 27, 2026 11:45 PM
---Advertisement---

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব যেন ভারতের ভিতরেও না পড়ে— এই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই ভার্চুয়াল বৈঠকে মূল সুর ছিল সমন্বয়, প্রস্তুতি এবং সতর্কতা।

নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলি বাদ দিয়ে দেশের অধিকাংশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় স্তর থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ ভূমিকা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতেই ‘টিম ইন্ডিয়া’ ধারণার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সময় একযোগে কাজ করাই সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের জ্বালানি সুরক্ষা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে— এই তিনটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করেন মোদি। বিশেষ করে সারের জোগান ও বণ্টন নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। কালোবাজারি বা মজুতদারি রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করার কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে আলাদা করে সতর্কবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং সীমান্ত সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই রাজ্যগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে তাঁদের।

এছাড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রুখতেও রাজ্যগুলিকে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভুল তথ্য ছড়ালে আতঙ্ক বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বৈঠকে কয়েকটি রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এলাকায় এখনও পর্যন্ত পেট্রল, ডিজ়েল এবং এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার উপরই জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে এই ধরনের সর্বভারতীয় বৈঠক এই প্রথম। ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি থেকে জ্বালানি বাজার— সর্বত্রই পড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগাম সতর্ক অবস্থান নিতে চাইছে কেন্দ্র সরকার।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now