দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী দামের পর আচমকাই স্বস্তির খবর বাজারে। সোনার দামে সাম্প্রতিক পতন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের। বিয়ের মরশুম কিংবা উৎসবের আগে এই দামের হেরফের অনেকের পরিকল্পনাকে আবার বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনছে।
বাজার বিশ্লেষণ বলছে, ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট—দুই ক্ষেত্রেই দামে উল্লেখযোগ্য কমতি এসেছে। শহরভেদে অল্প পার্থক্য থাকলেও গড় হিসাবে প্রতি ১০ গ্রামে কয়েকশো থেকে হাজার টাকার মতো কমেছে দর। বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪,১৬০ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১১,৬২৫ টাকা। পাশাপাশি, রুপোর বাজারেও নরম ভাব—১ কেজি রুপোর দাম প্রায় ২,৩৯,৮৫৩ টাকা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ GST যুক্ত হবে।
কেন এই পতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক কারণ একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে। বিশ্ববাজারে সোনার দামের নিম্নগতি, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, সুদের হার বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ সোনা থেকে মুখ ফিরিয়েছে। ফলে চাপে পড়েছে হলুদ ধাতুর দাম।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এখন কি সোনা কেনার উপযুক্ত সময়? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বা পারিবারিক প্রয়োজনে কেনাকাটার জন্য এই সময়টি কার্যকর হতে পারে। দাম কম থাকায় তুলনামূলক কম খরচে বেশি পরিমাণ সোনা কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে সতর্কতাও জরুরি। হলমার্কযুক্ত সোনা কেনা, বিভিন্ন দোকানে দাম যাচাই করা এবং মেকিং চার্জ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা—এই বিষয়গুলো মাথায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আগামী দিনে দামের গতিপথ কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ফলে যারা কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের কাছে এটি একটি সময়োপযোগী সুযোগ বলেই মনে করা হচ্ছে।








