ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ইসলামাবাদে প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতি শুরু হলেও, তার মাঝেই পরস্পরবিরোধী বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। একদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে অনাগ্রহের ইঙ্গিত, অন্যদিকে দাবি—সংঘাত প্রায় শেষের পথে।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আর ভাবছেন না। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অবস্থানে বদল লক্ষ করা যায়। বুধবার তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এটা প্রায় শেষের পথে। শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি বলেই মনে করছি।”
যদিও একই সঙ্গে শক্ত বার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, “আমি এখনই সব কিছু গুটিয়ে নিলে ওদের দেশ পুনর্গঠন করতে আরও ২০ বছর সময় লাগবে। আমরা কিন্তু এখনও শেষ হইনি।” পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান দ্রুত কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে আগ্রহী।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির জেরে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক জাহাজকে ঘুরে যেতে হচ্ছে বলে খবর, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সংঘাতের সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন Israel এবং United States যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। তার পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও। এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রাম্প এই হামলার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, “আমার ওটা করতেই হত। কারণ, তা না করলে আজ ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকত। সেখানে সকলকে আপনাদের স্যর বলতে হত। আপনারা নিশ্চয়ই তা করতে চান না।”
এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ইসলামাবাদেই সেই বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কারণ হিসেবে উঠে আসছে দীর্ঘ দিনের অবিশ্বাসের প্রসঙ্গ।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এই প্রসঙ্গে বলেন, “শান্তি আলোচনার সাফল্যের নেপথ্যে বড় বাধা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস।” তাঁর মতে, এই অবিশ্বাস কাটাতে সময় লাগবে, রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ শেষের পথে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আপাতত অপেক্ষায় বিশ্ব।





