আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মরসুম যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিভ্রান্তি। কারণ, নতুন আর্থিক বছর ২০২৬-’২৭ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফর্মে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে Ministry of Finance। ফলে পুরনো নিয়ম মেনে ফর্ম ভরতে গেলে বিপাকে পড়তে পারেন সাধারণ করদাতারা।
নতুন ব্যবস্থায় করের হার অপরিবর্তিত থাকলেও, ফর্মের নাম ও কাঠামোয় এসেছে রদবদল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ফর্ম নির্বাচন না করলে রিটার্ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমনকি ফেরত পেতে দেরিও হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে বেতনভোগীদের পরিচিত ফর্মে। এতদিন যে ফর্ম ১৬-র উপর নির্ভর করতেন করদাতারা, সেটিই এখন নতুন নামে চালু হয়েছে—ফর্ম ১৩০। একই ভাবে, বিভিন্ন উৎস থেকে কাটা টিডিএসের বার্ষিক বিবরণী হিসেবে ব্যবহৃত ফর্ম ২৬এএস-ও আর আগের নামে নেই, সেটি এখন ফর্ম ১৬৮।
বকেয়া বা অগ্রিম বেতন, গ্র্যাচুইটি কিংবা পেনশনের উপর করছাড় দাবি করতে যে ফর্ম ১০ই জমা দিতে হত, সেটিও বদলে হয়েছে ফর্ম ৩৯। অন্যদিকে, টিডিএস সংক্রান্ত আর একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ফর্ম ১৬এ এখন নতুনভাবে পরিচিত ফর্ম ১৩১ নামে।
যাঁদের মোট আয় করযোগ্য সীমার নিচে, তাঁদের জন্য টিডিএস এড়াতে যে ফর্ম ১৫জি এবং ১৫এইচ জমা দিতে হত, সেগুলিও আর পুরনো নামে নেই। এই দুই ফর্ম একত্রে এখন ফর্ম ১২১ নামে চালু হয়েছে।
শুধু ফর্ম নয়, করছাড়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আয়কর আইনের জনপ্রিয় ধারা ৮০সি-সহ একাধিক ছাড়ের বিধান এখন নতুন আইনে ১২৩ ধারার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর বাঁচানোর নিয়ম বুঝতেও নতুন করে নজর দিতে হবে করদাতাদের।।
সব মিলিয়ে, এবারের রিটার্ন ফাইলিংয়ে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ফর্ম ভালো করে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সামান্য ভুলও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।








