বিশ্ববাজারের অস্থিরতা আর যুদ্ধের আবহে যখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রার, ঠিক তখনই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে বড়সড় স্বস্তি ফিরল দেশের অর্থনীতিতে। গত ১২ বছরের রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে অভাবনীয় সাফল্য দেখাল ভারতীয় রুপি। এক ধাক্কায় ১৫৬ পয়সা বেড়ে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য এখন ৯৩.১৪ টাকা।
মার্চ মাস থেকেই ভারতের ফরেক্স মার্কেটে আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়েছিল। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের জেরে গত সোমবার টাকার দর ৯৫-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। শুক্রবার পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়, যখন এক ডলারের মূল্য দাঁড়ায় ৯৪.৮৪ টাকা— যা ছিল টাকার ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তর। কিন্তু ২রা এপ্রিল বাজার খুলতেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে।
এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের একটি কড়া সার্কুলার। গত ২৭শে মার্চ আরবিআই নির্দেশ দেয়, ব্যাঙ্কগুলি রুপিতে ‘নেট ওপেন পজিশন’ (NOP)-এর ক্ষেত্রে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সীমা রাখতে পারবে না। এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলি বাজারে ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে টাকার মূল্যের ওপর।
ফরেক্স বিশ্লেষকদের মতে, আরবিআই-এর এই নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ বাজার থেকে অতিরিক্ত ডলার বের করে আনছে। তাঁদের বক্তব্য, “এই নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপগুলি ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের ওপেন পজিশন কমাতে ডলার বিক্রি করতে বাধ্য করেছে, যা রুপির শক্তি বাড়াতে বড় অবদান রেখেছে।” বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাঙ্কগুলি ডলার বিক্রি চালিয়ে যাবে, ফলে আগামী কয়েকদিন টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান বজায় থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিশ্ব রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভারতীয় টাকার প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছিল। একদিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে, অন্যদিকে ডলার সূচকও ১০০.০৫ পয়েন্টে উঠে শক্তিশালী হয়েছে। এই সাঁড়াশি চাপের মধ্যেও আরবিআই-এর সময়োচিত হস্তক্ষেপ খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলল ভারতীয় মুদ্রাকে। মঙ্গলবার মহাবীর জয়ন্তী এবং বুধবার ব্যাঙ্ক ক্লোজিংয়ের কারণে বাজার বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবারের এই ‘জাম্প’ ভারতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।







