টলিউডের অন্দরে নানা বিতর্ক, সংগঠন ঘিরে টানাপোড়েন এবং শিল্পীদের একাংশের অভিযোগ নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, তখনই নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানালেন অভিনেত্রী ও প্রযোজক Ena Saha। তাঁর দাবি, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কখনও এমন কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি, যেখানে নিজেকে অসহায় বা বঞ্চিত বলে মনে হয়েছে।
সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রির একাধিক বিতর্কের আবহে তাঁকে দেখা গিয়েছিল Eastern India Motion Pictures Association-এর দফতরে। সেই উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও এনা জানিয়ে দেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি সে দিন ইমপা-র অফিসে গিয়েছিলাম ‘পাশে আছি’— এমন বার্তা দিতে। সত্যি বলছি, আমাকে সবাই আগলে রেখেছে। কখনও কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি।”
অনেক দিন ধরেই বড়পর্দায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না এনাকে। ফলে প্রশ্ন উঠছিল, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কোনও অস্বস্তি কি তাঁর এই দূরত্বের কারণ? সেই জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এনার বক্তব্য, “অন্দরের রাজনৈতিক সমস্যার কারণে আমি পর্দা থেকে দূরে, একে বারেই নয়। আমি নিজের কাজের জন্য তৈরি হচ্ছি। এখন প্রোডাকশন করছি। অনেকগুলো দিক দেখতে হচ্ছে।”

প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শিল্প জগতের প্রবীণদের সহযোগিতাও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এনা বলেন, “সেখানেও ইন্ডাস্ট্রির গুরুজনেরা আমাকে সাহায্য করেছেন। যেমন ছবির সেন্সর সার্টিফিকেট আগে থেকে বার করাতে হয় জানতাম না। সে ক্ষেত্রেও বড়দের পাশে পেয়েছি। সুতরাং, আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোনও সমস্যায় পড়িনি।”
তবে শুধু প্রযোজনাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না অভিনেত্রী। আবারও অভিনয়ে জোর দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এনা জানান, “আমি সবাইকে ফোন করে বলেছি অভিনয় করতে চাই। দক্ষিণে তো আগে অনেক কাজ করেছি। সেখানেও গিয়ে কথা বলে এসেছি। অনেক চিত্রনাট্য আসছে আমার কাছে। তাই সেই দিকেও মন দিতে চাই।”
রাজনীতি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অতীতে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “আমরা অনেক অঞ্চলে অনুষ্ঠান করতে যাই। কোন রাজনৈতিক দল আয়োজন করে সেই সব অনুষ্ঠান তা আমার জানা নেই। তাই ও ভাবে কী করে উত্তর দিতে পারি।”
সব মিলিয়ে, টলিউডের সাম্প্রতিক বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রেখেই নিজের কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মন দিতে চাইছেন এনা। অভিনয় এবং প্রযোজনা— দুই ক্ষেত্রেই নতুন উদ্যমে ফেরার প্রস্তুতি যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।








