কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য সামনে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। বহুদিনের জল্পনার মাঝে এবার 8th Pay Commission-কে ঘিরে কর্মী সংগঠনগুলির একগুচ্ছ দাবিপত্র সামনে এসেছে, যা কার্যকর হলে বেতন কাঠামোয় আমূল বদল দেখা যেতে পারে।
National Council – Joint Consultative Machinery-র ড্রাফ্ট কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্মীদের ন্যূনতম বেসিক বেতন বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করা উচিত। বর্তমানে 7th Pay Commission অনুযায়ী সেই অঙ্ক ১৮,০০০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বেতন ও পেনশন—দুই ক্ষেত্রেই বড়সড় বৃদ্ধি হতে পারে।
এতেই থেমে থাকেনি দাবি। কর্মী সংগঠনগুলির মতে, প্রতি বছরের ইনক্রিমেন্ট ৬ শতাংশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বেতন কাঠামো সরল করে ১৮টি লেভেলের বদলে ৭টি বড় লেভেলে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে পদোন্নতির পথ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মধ্যম স্তরের কর্মীদের বেতন ১.৩৫ লক্ষ থেকে ২.১৫ লক্ষ টাকার মধ্যে পৌঁছতে পারে।
পেনশন নিয়েও জোরালো দাবি উঠেছে। বিশেষ করে Old Pension Scheme পুনরায় চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে। ২০০৪ সালের পর যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অবসরের সময় শেষ বেতনের ৬৭ শতাংশ পেনশন এবং পরিবারের জন্য ৫০ শতাংশ ফ্যামিলি পেনশন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি পাঁচ বছরে পেনশনের পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশও রয়েছে।
কর্মীদের অন্যান্য সুবিধা নিয়েও একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স কমপক্ষে ৩০ শতাংশে বাড়ানোর দাবি উঠেছে, বিশেষ করে মেট্রো শহরে আরও বেশি হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ২৪০ দিন করা, পিতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, এমনকি বাবা-মায়ের দেখভালের জন্য আলাদা ছুটির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। ডিউটির সময় মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ ও বিমা কভার বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এগুলি কেবল সুপারিশের পর্যায়েই রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখবে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি এই দাবিগুলির অন্তত কিছু অংশও বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় কর্মী ও পেনশনভোগীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর সরকারের দিকে—অষ্টম বেতন কমিশন বাস্তবে কতটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, সেটাই দেখার।







