“আমার গায়ে রাজনৈতিক রং লাগাবেন না”, বিজেপির জয়ের পর আর যা লিখলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

On: Tuesday, May 5, 2026 11:34 PM
---Advertisement---

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় শুধু ক্ষমতার অঙ্কই বদলায়নি, বদলেছে বহু ‘অজেয়’ বলে ধরা আসনও। তার মধ্যে অন্যতম টালিগঞ্জ। দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা অরূপ বিশ্বাস-কে হারিয়ে এই কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। ২০০৬ সাল থেকে যে আসনে ঘাসফুলের দাপট ছিল, সেখানে এবার পদ্ম ফুটেছে—এটাই এই নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক।

রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন স্পষ্ট। মোট ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে গিয়েছে ২০০-র বেশি আসন, আর তৃণমূল অনেকটাই পিছিয়ে। ফলে টালিগঞ্জের ফল শুধু একটি কেন্দ্রের লড়াই নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই উঠে আসছে।

এই কেন্দ্রের গুরুত্ব আলাদা, কারণ এটি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রাণকেন্দ্র। সেই জায়গায় একজন অভিনেত্রী-রাজনীতিকের জয় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জয়ের পর পাপিয়া জানিয়েছেন, শুধু বিধানসভা নয়, টালিগঞ্জের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চেহারাও বদলাতে চান তিনি। তাঁর অভিযোগ, “নোংরা রাজনীতির জন্য বহু কাজ হাতছাড়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সুযোগ পেলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে কাজ করতে আগ্রহী।

অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্ট

নির্বাচনের আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন পাপিয়া। তাঁর কথায়, “রাজনীতি কোনও খেলা নয়, দায়িত্ব নিয়ে করতে হয়।” টালিগঞ্জে কাজের অভাব, শিল্পের স্থবিরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সেই চ্যালেঞ্জই যেন ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হল।

এদিকে, এই ফলাফলকে ঘিরে টলিউডের অন্দরেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নিজের অবস্থান নিয়ে। তাঁর কথায়, “দয়া করে আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না… বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করেছি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, টালিগঞ্জের এই ফলাফল শুধু রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, বিনোদন জগতের অন্দরমহলেও নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার, এই পরিবর্তন কতটা বাস্তব বদল এনে দেয় শিল্প ও রাজনীতির সংযোগস্থলে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now