রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এ বার নিজের অবস্থান এবং পুরনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (Srabanti Chatterjee)। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র শপথের দিনেই তিনি সামনে আনলেন নিজের আশা, হতাশা এবং আক্ষেপের কথা।
শ্রাবন্তীর কথায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের খবর শোনার পর প্রথমেই তাঁর মনে পড়েছিল ‘অভয়া’র মায়ের কথা। অভিনেত্রীর বক্তব্য, “প্রথমেই অভয়ার মায়ের মুখটা ভেসে উঠেছিল। মনে হল, এই বার তিনি বিচার পাবেন। একজন মা হিসাবে আমি চাইব, তিনি যেন তাঁর মেয়ের বিচার পান।”
পরিবর্তনের প্রশ্নে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ভাল হলে তিনি সেই পরিবর্তনের পক্ষেই। তাঁর কথায়, “যাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না তাঁরা যদি চাকরি পান, ভাল তো!”
এ বারের নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের প্রচারে অংশ নিলেও, নিজেকে কখনও সক্রিয় রাজনীতির মানুষ বলে মনে করেননি বলে জানান শ্রাবন্তী। তাঁর দাবি, “আমি একজন শিল্পী হিসাবেই প্রচারে গিয়েছিলাম। আমি তো দলে যোগ দিইনি। জানতাম, আমি প্রার্থী হব না।”
২০২১ সালে বিজেপির হয়ে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েছিলেন শ্রাবন্তী। তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। সেই নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার স্মৃতিও এখনও তাঁকে তাড়া করে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
বেহালার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন শ্রাবন্তী। “ওটাই আমার পাড়া, আমার বেড়ে ওঠা। তাই সুযোগটা পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। মানুষ আমায় গ্রহণ করেননি, সেটা মেনে নিয়েছিলাম,” বলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর তাঁর মনে আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, “মনে হয়েছিল, মানুষ যদি আমায় একটু বিশ্বাস করতেন, আমি ভাল কাজ করতে পারতাম।”
রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কার্যত দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রাবন্তী। তাঁর স্পষ্ট জবাব, “রাজনীতি আমার জায়গা নয়।” অভিনেত্রীর মতে, সাধারণ মানুষ এখনও অভিনেতাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে গ্রহণ করতে স্বচ্ছন্দ নন। পাশাপাশি শিল্পীদের নিয়ে ট্রোলিং ও কটাক্ষ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিজেপির সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শ্রাবন্তীর পর্যবেক্ষণ, সেই সময় বাংলাকে পুরোপুরি বুঝতে পারেনি দলটি। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে বলেই তাঁর ধারণা। তিনি বলেন, “এখন তারা বাংলাকে বুঝে, জেনে নিয়েছে। তাই হয়তো এত মানুষ তাদের নির্বাচন করেছেন।”
নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে নারী নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন। বিশেষ করে বেহালার জলজট ও ট্রাফিক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে অভিনেত্রী বলেন, “যাঁরা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে বসে আছেন, তাঁরা যেন চাকরি পান।”
ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়েও মুখ খুলেছেন শ্রাবন্তী। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, ভবিষ্যতে যেন কোনও শিল্পীকে আর ‘ব্যান’-এর মুখে পড়তে না হয়। শ্রাবন্তীর কথায়, “গ্রুপিজ়ম, লবি— এগুলোর বাইরে এসে যোগ্যেরা কাজ পাক। শিল্পীরা যেন প্রাণ খুলে কাজ করতে পারেন।”








