গুঞ্জন ছিল তিনি নাকি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। সেই জল্পনা আগেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তবে প্রার্থী না হলেও রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর উপস্থিতি এ বার স্পষ্ট। নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস-এর সমর্থনে জনসভায় হাজির হয়ে কার্যত রাজনৈতিক সফরের সূচনা করলেন তিনি।
শনিবার চক দিগনগর হাইস্কুলের মাঠে আয়োজিত সভায় তারকাদের ভিড় নজর কেড়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী জুন মালিয়া-ও। তবে জনসভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে পরমব্রতের ভাষণ।
এর আগে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে এ ভাবে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। সেই প্রথম উপস্থিতিতেই আক্রমণাত্মক সুরে শোনা গেল তাঁকে। মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, “কৃষ্ণনগর দক্ষিণের এই পুণ্যভূমি থেকে আজ ব্যক্তিগতভাবে আমার রাজনৈতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হচ্ছে। এই ভরদুপুরে ধুলো আর রোদ উপেক্ষা করে আসার একটাই কারণ— ২০২৬-এর নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট নয়, এটি বাঙালির আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।”
নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে তাঁর বক্তব্য, যে রাজ্যগুলিতে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার বেশি, সেখানকার নেতাদের বাংলাকে নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার নেই। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ এখনও দেশের অন্যতম নিরাপদ রাজ্য নারীদের জন্য। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে অকারণে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সবশেষে তিনি রাজ্যের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে আস্থা রাখার আবেদন জানান। ২৯ এপ্রিল জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান উপস্থিত জনতার কাছে।
তপ্ত দুপুরের মধ্যেও সভায় জনসমাগম ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর এই আত্মপ্রকাশ ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, অভিনয়ের জগতেও সম্প্রতি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পরমব্রত। দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরেছেন তিনি, জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।








