তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলে ভাঙনের জেরে এবার নতুন রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বিধানসভায়। একদিকে বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা হিসেবে উঠে এসেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র পছন্দের মুখ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এখনও নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভার অন্দরে ‘আস্থা ভোট’-এর সম্ভাবনা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা ৫৯ জন বিধায়ক ঋতব্রতকে তাঁদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেই সমর্থনের ভিত্তিতেই তিনি বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পেয়েছেন। তবে শোভনদেব শিবিরের দাবি, দলনেত্রীর নির্দেশ এবং দলীয় বৈঠকের নথি তাঁদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি দুই পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল পরিষদীয় দল হিসেবে দাবি করে, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ের জন্য স্পিকার আস্থা ভোটের পথে হাঁটতে পারেন। এমন হলে তা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সাধারণত সরকার টিকিয়ে রাখার প্রশ্নেই আস্থা ভোট হয়, বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব নির্ধারণে নয়।
আগামী ১৮ জুন রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। সেই অধিবেশনেই এই ইস্যু নতুন মোড় নিতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান। শোভনদেব-ঘনিষ্ঠদের একাংশ মনে করছেন, প্রয়োজন হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরীক্ষা হোক। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত সমর্থন রয়েছে এবং আস্থা ভোট হলেও ফলাফল বদলাবে না।
এদিকে দলীয় সংকট সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের খবর মেলেনি।
এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘বিধানসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার স্পিকারের। তিনি যখন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তখন তা বদলানো সহজ হবে না।’’
ফলে আগামী অধিবেশন শুধু বাজেট বা আইন প্রণয়ন নয়, বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।








