টলিউডে নতুন জমানা: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ ও ফেডারেশনের বিদায়, রাশ হাতে নিচ্ছেন পাপিয়া অধিকারী

On: Wednesday, June 3, 2026 8:12 PM
---Advertisement---

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন টলিউডের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক সমীকরণ এক লহমায় ওলটপালট করে দিল। একসময়ের দাপুটে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অর্থাৎ অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের সাম্রাজ্য এখন অতীত। নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বুধবার সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর সংগঠনের অস্তিত্ব কার্যত মুছে দিলেন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে দাঁড়িয়ে টলিউডের রাশ নিজের হাতে নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি।

পাপিয়া অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, টলিউডে আর ফেডারেশন বা ২৬টি গিল্ডের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তার বদলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাহায্যে দিল্লির ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশন’-এর (কনফেডারেশন) অধীনে আসবেন টলিউডের সমস্ত কলাকুশলী। লক্ষ্য একটাই— দুর্নীতিমুক্ত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। ২৬টি গিল্ডের পরিবর্তে এখন থেকে কেবল পরিচালক, ক্যামেরা, প্রোডাকশন ম্যানেজার এবং শিল্প নির্দেশনা বিভাগের মতো ৩ থেকে ৪টি কমিটি কাজ করবে।

এ দিন সকালে গিল্ডের মুখপাত্রদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন পাপিয়া অধিকারী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক অশোক ধনুকা, পরিচালক অতলু বসু, অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, মুমতাজ সরকার, মৌবনী সরকারসহ ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বৈঠকে কলাকুশলীদের কাজের নিশ্চয়তা ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মতবিরোধের জেরে কাউকে আর কাজ থেকে নিষিদ্ধ করা বা শুটিং বন্ধ করা যাবে না। ‘কাটমানি’ রুখতে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা।

দুর্নীতিগ্রস্তদের হঠাতে বিজেপি বিধায়ক এক অভিনব নীতি ঘোষণা করেছেন, যার নাম ‘ডি কিউব’ অর্থাৎ ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে ফেলা) এবং ডিপোর্ট (সরিয়ে দেওয়া)। এই প্রসঙ্গে এ দিন তিনি আরও বলেন, “ফেডারেশন এবং গিল্ড-এর বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ। বেশ কিছু অভিযোগ প্রশাসনের কাছেও পৌঁছেছে। আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চাই না। বদলে ‘ডি কিউব’ ব্যবহার করতে চাই।” এই নীতি প্রয়োগ করে ইতিমধ্যেই ম্যানেজার গিল্ডের মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে, মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ডের বাপি মালাকার এবং ক্যামেরা গিল্ডের স্বপন মজুমদার ও সুজিত হাজরাকে নিশানা করেছেন তিনি। এই ব্যক্তিদের বাংলায় আর কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা করেন, “এই ক’জনের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ। এঁদের আর টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হবে না। চাইলে ভিন্‌রাজ্যে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে অবশ্যই এঁরা কাজ করতে পারবেন। কিন্তু বাংলায় আর নয়।”

ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ বদলাতে বলিউডের ধাঁচে ৮ ঘণ্টা কাজের সময়সীমা চালু করার ভাবনা রয়েছে নতুন নেতৃত্বের। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গেও কথা বলবেন পাপিয়া অধিকারী। সিরিয়াল বা ওয়েব সিরিজের অর্থায়নের উৎস কী এবং গল্প বা বিষয়বস্তু কেমন হবে, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ফেডারেশনকে জবাবদিহি করতে হবে বলেও তিনি জানান।

টলিউডের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে এ দিন পাপিয়ার আফসোস, “আমাদের সময় পরিচালক ছিলেন ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’। পরে তাঁরাই যেন ‘চাকর’! আমি সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, কত জন কলাকুশলী নিয়ে তাঁরা কাজ করবেন। ফিরিয়ে আনা হবে সেই সব প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, কলাকুশলীকে, যাঁরা এত দিন ইন্ডাস্ট্রিতে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর দৌলতে ব্রাত্য ছিলেন।”

পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যাতে ভিনরাজ্য থেকে আরও বেশি কাজ আসে, সেই বিষয়েও উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর অবসানের পর পাপিয়া অধিকারীর হাত ধরে টলিউড এক সম্পূর্ণ নতুন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক যুগে পা দিল।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now