যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড়। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরের পর গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিনের আবেদন জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। সোমবার বারাসত আদালতে তাঁর আইনজীবীরা আগাম জামিনের আবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যুবভারতীতে মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগকে ঘিরে। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Shatadru Dutta) আগেই একাধিক অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো ধারা। এফআইআর দায়েরের বিষয়টি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন শতদ্রু নিজেও। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), ক্রীড়ামন্ত্রী নিতীশ প্রামাণিক (Nisith Pramanik) এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ধন্যবাদ জানান।
অভিযোগকারী শতদ্রুর দাবি, অনুষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক টিকিট তাঁর কাছ থেকে দাবি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, টিকিট না দিলে বা নির্দিষ্ট দাবি না মানলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট নেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেগুলির একাংশ কালোবাজারিতে বিক্রি করা হয়।
যুবভারতীর অনুষ্ঠানে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ, অনুমোদনহীন বহু ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। ফলে যাঁরা অর্থ খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের অনেকেই প্রিয় ফুটবল তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে নির্ধারিত কর্মসূচি ব্যাহত হয় এবং মেসিদের দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়।
তদন্ত শুরুর পর থেকেই এই ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক এবং ক্রীড়ামহলে বিতর্ক চলছিল। সেই সময় ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আদালতে পুলিশের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক অনুষ্ঠানের জন্য টিকিট কেটেছিলেন এবং টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছিল।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণও বদলেছে। সরকার পরিবর্তনের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মেসির সফর ঘিরে সেই বহুচর্চিত বিতর্ক। এখন নজর আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এবং তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ের দিকে।






