রান্নার গ্যাস ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র। পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG)-এর ব্যবহার বাড়াতে এবং গৃহস্থালির LPG-র অপব্যবহার রুখতে নতুন কিছু নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ১ জুন থেকে। এর ফলে দেশের বহু পরিবারের LPG সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে দ্রুত বাড়ছে PNG সংযোগের সংখ্যা। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ নতুন PNG সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত হারে সেই পরিষেবার ব্যবহার বাড়েনি। বরং সরবরাহের তুলনায় ব্যবহার কম থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে। এর পরেই দেখা যায়, বহু পরিবার PNG সংযোগ নেওয়ার পরেও LPG সিলিন্ডার ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘এক পরিবার, এক রান্নার গ্যাস সংযোগ’ নীতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন এমন পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে, যাদের একই ঠিকানায় PNG এবং LPG—দুটি সংযোগই রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় PNG-সুবিধাযুক্ত এলাকায় বসবাসকারী গ্রাহকদের LPG সংযোগ সারেন্ডার করতে বলা হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে LPG সংযোগ চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, PNG সংযোগ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে LPG সংযোগ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও গ্রাহক যদি এমন এলাকায় চলে যান যেখানে PNG পরিষেবা নেই, তাহলে তিনি আবার LPG সংযোগ চালু করার সুযোগ পাবেন।
এদিকে, জুন মাস থেকেই LPG সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলি নিজেদের তথ্যভান্ডার একত্রিত করেছে। ফলে একই পরিবারের একাধিক গ্যাস সংযোগ চিহ্নিত করা আরও সহজ হবে। যদিও PNG-এ স্থানান্তরের জন্য গ্রাহকদের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, LPG রিফিল বুকিংয়ের ব্যবধানও বাড়ানো হয়েছে। শহরাঞ্চলের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগে ২১ দিন পর নতুন বুকিং করা গেলেও এখন সেই সময়সীমা ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এই ব্যবধান ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। সরবরাহের উপর চাপ কমানো এবং অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভর্তুকির ক্ষেত্রেও পুরনো নিয়ম বহাল থাকছে। একটি পরিবার বছরে সর্বাধিক ১২টি ভর্তুকিযুক্ত LPG সিলিন্ডার পাবে। এর বেশি সিলিন্ডার কিনতে হলে বাজারদরেই মূল্য দিতে হবে। নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে সিকিউরিটি ডিপোজিট, রেগুলেটর, পাইপ এবং ইনস্টলেশনের খরচও গ্রাহককে বহন করতে হবে।
PNG-র প্রসার এবং জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
নোট: উপরের তথ্যগুলি বিভিন্ন সূত্রে প্রচারিত দাবি ও সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের ভিত্তিতে লেখা। প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন সংস্থা বা কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা উচিত।








