টলিউডে নেমে এল শোকের ছায়া। বুধবার দুপুরে আচমকাই মৃত্যু হল পরিচালক অনীক দত্ত-র। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। দ্রুত তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হয়েছে। পরিচালকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
মৃত্যুকালে অনীক দত্তের বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৬ বছর। কয়েক দিন আগেই ছিল তাঁর জন্মদিন। ২২ মে সমাজমাধ্যমে পুরনো স্মৃতির কিছু ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই পোস্ট ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও দেখা গিয়েছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এমন আকস্মিক ঘটনায় স্তব্ধ টলিউড।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসার আগে দীর্ঘ সময় বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ করেছেন অনীক। একাধিক বিজ্ঞাপনী ছবি নির্মাণের অভিজ্ঞতার পর বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ। ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ মুক্তির পরই আলাদা ভাবে নজরে আসেন তিনি। ব্যঙ্গ, রাজনৈতিক ইঙ্গিত এবং সমাজ-সমালোচনাকে নিজের ছবিতে বারবার তুলে ধরেছিলেন পরিচালক।
এর পর ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদ বধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ থেকে ‘অপরাজিত’— একাধিক ছবিতে নিজের স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের জীবন ও সৃষ্টির অনুপ্রেরণায় তৈরি ‘অপরাজিত’ মুক্তির সময় প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও দর্শক এবং সমালোচকদের বড় অংশের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল সেই ছবি। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল চলচ্চিত্র মহলে।
রাজনৈতিক ভাবনায় স্পষ্ট বামমনস্ক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন অনীক। সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রশ্নে তাঁর মতামত বহুবার উঠে এসেছে প্রকাশ্যে। ফলে তাঁর মৃত্যু শুধু চলচ্চিত্র জগতেই নয়, সাংস্কৃতিক মহলেও বড় শূন্যতা তৈরি করল বলে মত অনেকের।
হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ভিড় জমিয়েছেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। প্রযোজক ফিরদসুল হাসান বলেন, “বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। অনীকের মেয়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হবে ময়নাতদন্তের জন্য।”
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর-ও। তাঁর কথায়, “এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। খুবই আকস্মিক ঘটনা।”








