শপথের দু’দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সরকারিভাবে ঘোষণা করা হল নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব। বিজেপির রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে পঞ্চায়েত দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)-কে। এর পাশাপাশি কৃষি বিপণন এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরও তাঁর হাতেই থাকছে। গ্রামীণ প্রশাসন ও সংগঠনের ক্ষেত্রে দিলীপের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) পেয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। শহরাঞ্চলের উন্নয়ন এবং মহিলা-কেন্দ্রিক সামাজিক প্রকল্প—দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik)-কে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নিশীথের গুরুত্ব মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania)। আর আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব গিয়েছে ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu)-র হাতে।
রাজ্য সরকারের সূত্রের খবর, আপাতত বাকি গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছেই রেখেছেন। ফলে প্রশাসনের মূল নিয়ন্ত্রণ প্রথম পর্যায়ে শুভেন্দুর হাতেই থাকছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে নবান্নে অনুষ্ঠিত হয় নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ মন্ত্রী, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার “সুশাসন ও সুরক্ষা”-কে সামনে রেখেই কাজ করবে। একই সঙ্গে বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও “ডবল ইঞ্জিন সরকার”-এর মডেল অনুসরণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।





