ভোটে অশান্তি রুখতে কমিশনের বড় পদক্ষেপ, ১৫২ বিধানসভায় মোতায়েন ২ হাজারের বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’

On: Sunday, April 19, 2026 7:04 PM
---Advertisement---

বিধানসভা নির্বাচনের আগে অশান্তি ঠেকাতে কড়া প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ বা গোলমালের খবর পেলেই যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই তৈরি রাখা হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ বা কিউআরটি। প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২,১৯৩টি কিউআরটি মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছবে এই বিশেষ দল। প্রতিটি কিউআরটি-র জন্য নির্দিষ্ট গাড়ির ব্যবস্থা থাকবে এবং সেই গাড়িতে ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্য পুলিশের অন্তত একজন এসআই বা এএসআই পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁর সঙ্গে থাকবেন চার থেকে ছ’জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। পরিস্থিতি অনুযায়ী জওয়ানের সংখ্যা বাড়ানোও হতে পারে।

জেলা ভিত্তিক হিসাব বলছে, সবচেয়ে বেশি কিউআরটি রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে মোট ২৮৮টি দল কাজ করবে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২১৯টি এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ৬৯টি দল থাকবে। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, যেখানে ২৫৩টি কিউআরটি মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে এই সংখ্যা ২৪৮।

এ ছাড়াও বাঁকুড়ায় ১৮০টি, বীরভূমে ১৬১টি, মালদহে ১৫৭টি এবং পুরুলিয়ায় ১৩৯টি কিউআরটি রাখা হয়েছে। কোচবিহারে ১৩৩টি এবং আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে ১১৩টি দল কাজ করবে। অন্য জেলাগুলিতে সংখ্যাটা তুলনায় কম হলেও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে সর্বত্র। যেমন জলপাইগুড়িতে ৮৩টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৫টি, আলিপুরদুয়ারে ৭০টি, ঝাড়গ্রামে ৬৬টি, দার্জিলিঙে ৫২টি, শিলিগুড়িতে ৩৯টি এবং কালিম্পঙে ১৭টি কিউআরটি থাকবে।

উত্তর দিনাজপুর জেলাকেও দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে দল মোতায়েন করা হয়েছে। ইসলামপুর পুলিশ জেলায় ৫৪টি এবং রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ৭৫টি কিউআরটি দায়িত্বে থাকবে।

শুধু কিউআরটি নয়, বুথ পর্যায়ের নজরদারিও জোরদার করছে কমিশন। সাধারণত ৮ থেকে ১০টি বুথ নিয়ে একটি সেক্টর অফিস গঠন করা হয়। সেই হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট হাজার হাজার সেক্টর অফিস তৈরি করা হয়েছে। যেমন পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৩০টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৮০টি, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ৩৯৩টি এবং মালদহে ২৬১টি সেক্টর অফিস গড়ে তোলা হয়েছে।

কমিশনের বক্তব্য, কিউআরটি দলগুলি সেক্টর অফিস এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখবে। কোথাও বুথ দখল, ভাঙচুর বা অশান্তির খবর মিললেই দ্রুত পৌঁছে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব থাকবে তাদের উপর।

প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলা, জঙ্গলমহল এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলার ভোটগ্রহণ হবে। ফলে এই পর্বকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। কিউআরটি এবং সেক্টর অফিসের এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন রাখাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে তারা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now