বৈশাখ মানেই বিয়ের মরসুম, আর সেই সঙ্গে সোনার চাহিদা। কিন্তু চলতি বছর ছবিটা খানিক আলাদা। একদিকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে দামের ওঠানামা— সব মিলিয়ে সোনা ও রুপোর বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সোনা ও রুপোর দামে বড় পতন দেখা যেতে পারে। তাঁদের পূর্বাভাস, দুই ধাতুর দামই প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই সেই প্রবণতা ধরা পড়েছে বাজারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ, আর রুপোর ক্ষেত্রে পতন আরও বেশি— প্রায় ১৬ শতাংশ।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি প্রায় ৪,৮০০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। রুপোর ক্ষেত্রেও একই ছবি— দাম নেমে এসেছে আউন্স প্রতি ৭৭ ডলারের কাছাকাছি। দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব স্পষ্ট। কলকাতায় ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনার ১০ গ্রাম দাম সম্প্রতি প্রায় ১,০০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকায়।
এই পতনের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার ফলে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচাতেলের দাম বাড়লে ডলারের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কেনাবেচা মূলত ডলারেই হয়। এতে সোনা ও রুপোর মতো ধাতুর উপর চাপ বাড়ে এবং তাদের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
এদিকে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। উল্টে হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামের আরও উল্লম্ফনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজারে আলোচনা, এই দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছুঁতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে সোনার দাম নেমে যেতে পারে আউন্স প্রতি ৪,৪০০ ডলারের নীচে। রুপোর ক্ষেত্রেও একই ধারা বজায় থাকবে, যেখানে দাম কমে ৬৭ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
তবে এই সম্ভাব্য পতন একদিক থেকে স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের, বিশেষ করে বিয়ের মরসুমে। গয়নার বাজারে চাহিদা বাড়ার সময় দামের এই সংশোধন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তাটা স্পষ্ট— এই বাজারে এখনই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাবধানে পা ফেলাই বুদ্ধিমানের।








