আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশীয় মূল্যবান ধাতুর বাজারে। শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, আবারও বাড়ল সোনা ও রুপোর দাম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব পরিস্থিতি যত অনিশ্চিত হচ্ছে, ততই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
এই দিনের লেনদেনে সোনার দামে সামান্য হলেও স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনা কেনার প্রবণতা এবং ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতা—এই তিনটি কারণই মূলত দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে কাজ করছে।
শুধু সোনা নয়, একই প্রবণতা দেখা গেছে রুপোর বাজারেও। শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে এই ধাতুর প্রতি। ইলেকট্রনিক্স, সৌর শক্তি উৎপাদন এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে রুপোর চাহিদা বাড়ছে বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে সোনা ও রুপো—দু’টিরই চাহিদা বেড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের বার্তা, সোনা ও রুপো এখনও “safe haven asset” হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজারের ওঠানামা মাথায় রেখে বিনিয়োগ করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদে সোনা তুলনামূলক স্থিতিশীল রিটার্ন দিতে পারে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে দামের অস্থিরতা থাকবেই।
এদিনের বাজারদরে ২২ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে প্রতি গ্রামে ১৪,২৭৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনা বিকোচ্ছে ১১,৭২০ টাকায়। অন্যদিকে, ১ কেজি রুপোর দাম পৌঁছেছে ২,৪৫,৩৩৬ টাকায়। এই দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ GST যুক্ত হবে।
গত কয়েক বছরে সোনার দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এখন বিকল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি সোনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী দিনে আরও কতটা স্থায়ী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির উপর।








