স্মার্টফোনের জগতে আবার ফিরল পুরনো এক ধারণা—মডিউলার ডিভাইস। এবারের চর্চার কেন্দ্রে Tecno, যারা সম্প্রতি এমডব্লিউসির মঞ্চে নিজেদের নতুন মডিউলার ফোন সামনে এনেছে। এই ডিভাইসের বড় আকর্ষণ, ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজন মতো ক্যামেরা লেন্স জুড়তে পারবেন, এমনকি বাড়তি ব্যাটারিও সংযুক্ত করা যাবে।
শুধু তাই নয়, এই ফোনের সঙ্গে একাধিক আনুষঙ্গিক গ্যাজেট ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে এক কথায়, ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী ফোনকে ‘কাস্টমাইজ’ করার স্বাধীনতা দিচ্ছে সংস্থাটি। প্রযুক্তিপ্রেমীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই নতুন পরীক্ষাকে ঘিরে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন।
তবে এই ধারণা একেবারে নতুন নয়। এর আগে Google, Motorola এবং Amazon (ফায়ারফোন প্রকল্প) মডিউলার ফোন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিল। কিন্তু বাজারে সেভাবে সাফল্য পায়নি সেই উদ্যোগগুলি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটা মূলত ব্যবহারকারীর অভ্যাসে। এখনকার দিনে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—টিকিট বুকিং, অফিসের কাজ, সরকারি পরিষেবা—সব কিছুই এক ডিভাইসে সীমাবদ্ধ। ফলে আলাদা করে অতিরিক্ত লেন্স বা ব্যাটারি সঙ্গে নিয়ে ঘোরা অনেকের কাছেই ঝামেলার।
একাংশ বিশেষজ্ঞের কথায়, “মডিউলার ফোন ব্যবহারকারীর জীবন সহজ করার বদলে অনেক সময় জটিল করে তোলে।” তাই বাড়তি সুবিধা থাকলেও সাধারণ ক্রেতারা এই ধরনের ফোন কিনতে আগ্রহী হন না।
এর পাশাপাশি বাজারে ক্যামেরা প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যেমন Vivo-র নতুন ফ্ল্যাগশিপ X300 Pro—যার ক্যামেরা দিয়েই দূরের বস্তুর স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। এমনকি একটি বিশেষ ‘এক্সটেন্ডার কিট’ যুক্ত করে প্রায় ডিএসএলআর মানের ছবি পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, যখন স্মার্টফোন নিজেই এত উন্নত ক্যামেরা দিচ্ছে, তখন আলাদা করে লেন্স জুড়ে ব্যবহার করার প্রয়োজন কতটা?
সব মিলিয়ে, টেকনোর নতুন মডিউলার ফোন প্রযুক্তিগত দিক থেকে অভিনব হলেও, বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার, পুরনো ব্যর্থতার ইতিহাস পেরিয়ে এই নতুন প্রচেষ্টা ব্যবহারকারীদের মন জয় করতে পারে কি না।








