ডেস্কে বসে দীর্ঘ সময় কাজ এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। অফিস হোক বা বাড়ি—ল্যাপটপের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোয় বাড়ছে পিঠ, কোমর, ঘাড়ের ব্যথার সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শুধু সাময়িক অস্বস্তি নয়, ভবিষ্যতে গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণও হয়ে উঠতে পারে। সেই সমস্যার সমাধানেই প্রযুক্তির নতুন সংযোজন—এআই নির্ভর ‘পসচার কারেক্টর’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ড ও পেশির উপর চাপ পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে ‘ডেড বাট সিনড্রোম’—যেখানে নিতম্বের পেশি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি স্পন্ডিলাইটিস, স্লিপ ডিস্ক বা সায়াটিকার মতো সমস্যাও বাড়ছে কম বয়সীদের মধ্যেই।
এই পরিস্থিতিতে নতুন এই স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারীর শরীরের ভঙ্গিমা নজরে রাখে। ছোট একটি চিপ বা সেন্সর ডিভাইস শরীরে বা পোশাকে লাগিয়ে নেওয়া যায়, যা বাইরে থেকে প্রায় অদৃশ্য। মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত হলেই শুরু হয় তার কাজ। ব্যবহারকারী কতক্ষণ ধরে বসে আছেন, কীভাবে বসছেন, শরীর ঝুঁকে যাচ্ছে কি না—সবকিছু বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠায়।
ডিভাইসটি মূলত দু’ভাবে কাজ করে। এক ধরনের পদ্ধতিতে ক্যামেরার সাহায্যে শরীরের ভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করা হয়। অন্যটি সেন্সর-নির্ভর—যেখানে পিঠ বা কাঁধে লাগানো ডিভাইস শরীরের নড়াচড়া বুঝে নেয়। ভুল ভঙ্গি ধরা পড়লেই মৃদু কম্পনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়, যেন সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে বসা যায়।
সিউড়ি সদর হাসপাতালের অস্থিরোগ চিকিৎসক সুব্রত গড়াই বলছেন, “পায়ের ব্যথা থেকে অনেক সময় নিতম্ব বা কোমরে সমস্যা ছড়িয়ে পড়ে। সায়াটিকার মতো সমস্যায় মেরুদণ্ডের নীচের অংশে চাপ পড়ে, যার প্রভাব পড়ে পুরো শরীরে। সঠিক ভঙ্গিতে বসা না হলে এই ব্যথা আরও বাড়তে পারে।”
তিনি আরও জানান, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটার অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর। তবে প্রযুক্তির সাহায্য নিলে অনেকেই সচেতন থাকতে পারেন, বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজ করেন।
বাজারে এই ধরনের এআই পসচার কারেক্টরের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা থেকে, উন্নত মডেলের ক্ষেত্রে তা ২০ হাজার টাকারও বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই সহজলভ্য এই ডিভাইসগুলি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে শহুরে জীবনে।
প্রযুক্তি কি তবে শরীরের খেয়াল রাখার দায়িত্বও নিতে শুরু করেছে? প্রশ্নটা থাকছে। তবে ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এখন এমন সহায়ক হাত খুঁজছেন, যা অন্তত ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকার অভ্যাসটা বদলাতে সাহায্য করবে।








