প্রতিদিনের জীবনে ইন্টারনেট এখন প্রায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা। কাজ থেকে বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই মোবাইল ডেটার উপর নির্ভরতা বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু সেই সঙ্গে বাড়ছে রিচার্জের চাপও। মাসে মাসে ২৮ দিনের প্ল্যান রিনিউ করা অনেকের কাছেই ঝামেলার। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যানের দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহকদের একাংশ।
এই সুযোগেই বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এগিয়ে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা BSNL। বেসরকারি সংস্থাগুলির তুলনায় তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ ভ্যালিডিটির প্ল্যান এনে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে তারা।
সংস্থার ২৩৯৯ টাকার প্রিপেইড প্ল্যানটি বর্তমানে বিশেষভাবে আলোচনায়। একবার রিচার্জ করলেই টানা ৩৬৫ দিনের বৈধতা—মানে পুরো এক বছর আর রিচার্জের চিন্তা নেই। এর সঙ্গে দেশজুড়ে আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং প্রতিদিন ১০০টি করে এসএমএসের সুবিধাও থাকছে।
তবে এই প্ল্যানের মূল আকর্ষণ ডেটা সুবিধায়। আগে যেখানে প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা দেওয়া হত, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২.৫ জিবি। অর্থাৎ, বাড়তি ৫০০ এমবি ডেটা প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে। যদিও এই অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য—৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এই অফার কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত দৈনিক ডেটা শেষ হয়ে গেলে পরিষেবা বন্ধ হবে না, তবে ইন্টারনেটের গতি কমে যাবে।
যাঁরা ফোন নম্বর সক্রিয় রাখতে চান কিন্তু ঘন ঘন রিচার্জ করতে চান না, তাঁদের জন্য এই প্ল্যান কার্যত ঝামেলামুক্ত সমাধান। ভিডিও স্ট্রিমিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা সাধারণ ব্রাউজিং—দৈনিক ডেটা বরাদ্দে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর প্রয়োজন মিটে যাওয়ার কথা।
এছাড়া প্ল্যানটিতে ন্যাশনাল রোমিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। ফলে দেশের যে কোনও প্রান্তে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে।
যদিও আরও বেশি ডেটা প্রয়োজন হলে বিকল্পও রেখেছে সংস্থা। ২৬২৬ টাকার আরেকটি বার্ষিক প্ল্যানে প্রতিদিন ২.৬ জিবি ডেটা দেওয়া হচ্ছে, বাকি সুবিধাগুলি প্রায় একই।
বর্তমান বাজারে যেখানে টেলিকম খরচ ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়ার দিক থেকে এই প্ল্যানটি অনেকের কাছেই কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত রিচার্জের ঝামেলা এড়াতে চান, তাঁদের কাছে এই অফার নিঃসন্দেহে নজরকাড়া।






