মেয়ের অসুখ সামনে আনলেন বরুণ ধাওয়ান, কী এই DDH? শিশুদের জন্য কতটা বিপজ্জনক এই রোগ?

On: Saturday, March 28, 2026 7:10 PM
---Advertisement---

ব্যক্তিগত জীবনের এক সংবেদনশীল অধ্যায় সামনে আনলেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান (Varun Dhawan)। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কন্যাসন্তান লারা ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ হিপ’ বা DDH-এ আক্রান্ত। সাধারণ মানুষের কাছে খুব পরিচিত নয় এমন এই রোগ নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।

অভিনেতার কথায়, এই সমস্যার কারণে শিশুর নিতম্বের গঠন স্বাভাবিক থাকে না। ফলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়, এমনকি একটি পা তুলনামূলক লম্বা দেখাতেও পারে। হাঁটা-চলার সময় অসুবিধা তৈরি হওয়া এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। বরুণ বলেন, “এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের অনেক সময় পায়ের গঠনে সমস্যা হয়। আমাদের দেশে সব জায়গায় এর চিকিৎসা হয় না। তবে যাঁরা আমার মেয়ের চিকিৎসা করছেন, তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ।”

চিকিৎসকদের মতে, ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ হিপ এমন একটি অবস্থা, যেখানে নিতম্বের বল-সকেট জোড় সঠিকভাবে তৈরি হয় না। ফলে ঊরুর হাড় তার নির্দিষ্ট জায়গায় শক্তভাবে বসে থাকতে পারে না। এই সমস্যাটি এক বা দুই নিতম্বেই হতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাম দিকেই বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি।

কেন হয় এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গর্ভাবস্থার সময় নিতম্বের অস্বাভাবিক বিকাশ, পরিবারে একই ধরনের রোগের ইতিহাস, প্রথম সন্তান হওয়া বা ব্রিচ পজিশনে জন্ম— এই সব কারণে DDH-এর ঝুঁকি বাড়ে। ফলে জন্মের পর থেকেই নজরদারি জরুরি।

এই রোগ ধরা না পড়লে ভবিষ্যতে একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। খুঁড়িয়ে হাঁটা, দীর্ঘদিনের ব্যথা, এমনকি অল্প বয়সেই অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব।

বরুণ আরও জানান, তাঁর মেয়েকে কিছুদিন ‘স্পাইকা কাস্ট’ ব্যবহার করতে হয়েছে, যা শিশুদের জন্য বেশ কষ্টকর। তাঁর কথায়, “প্রায় আড়াই মাস ওকে এই কাস্ট পরে থাকতে হয়েছে। সেটা খুবই কঠিন সময় ছিল। তবে এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে।”

চিকিৎসকদের মতে, শিশুর পায়ের দৈর্ঘ্যে অমিল, নিতম্বের নড়াচড়ায় সমস্যা বা হাঁটার সময় অস্বাভাবিক ভঙ্গি— এই সব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তারকাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামনে আসায় সচেতনতা বাড়ে— DDH-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। ছোটদের এই ধরনের শারীরিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমানোর মূল চাবিকাঠি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now