রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের এক বড় অংশের নজর এখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে। বিশেষ করে চাকরিহীন যুবক-যুবতীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বিজেপির প্রতিশ্রুত ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুন মাস থেকেই এই প্রকল্প চালুর পথে হাঁটতে পারে নতুন সরকার।
সূত্রের খবর, পূর্ববর্তী সরকারের ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে যেখানে বেকারদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো, সেখানে নতুন প্রকল্পে সেই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ৩,০০০ টাকা করার ভাবনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা চালু থাকতে পারে বলেও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নবান্নের অন্দরের খবর, বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের পুনর্গঠন এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। সেই কারণেই মে মাসে একাধিক সরকারি প্রকল্পের অর্থ বিতরণে সাময়িক বিরতি পড়েছে। তবে জুন মাস থেকে জনমুখী প্রকল্পগুলিকে ফের পূর্ণমাত্রায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কারা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন, তা নিয়েও প্রাথমিক কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সম্ভাব্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। অন্তত মাধ্যমিক পাশ হওয়াও বাধ্যতামূলক থাকতে পারে। যদিও সরকার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আনে কিনা, সেটাই এখন দেখার।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগে ‘যুবশ্রী’ বা অন্য কোনও বেকারভাতা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এমন ব্যক্তিদেরও নতুন করে আবেদন করতে হতে পারে। প্রশাসনের একাংশের মতে, পুরনো তথ্য যাচাই ও ভুয়ো আবেদন আটকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এবার পুরো প্রক্রিয়াতেই জোর দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতার উপর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই জানিয়েছিলেন, “পূর্বতন সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলি বন্ধ করা হবে না। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সঠিক ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা হবে।”
প্রশাসনিক মহলের অনুমান, আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ে এবার কড়া নজরদারি চালানো হতে পারে। যাঁরা আগে সরকারি প্রকল্পে টাকা পেতেন, তাঁরা পুরনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
যদিও এখনও সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় নথির তালিকা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। আবেদন করতে লাগতে পারে বয়সের প্রমাণপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, আধার বা ভোটার কার্ড এবং আবেদনকারীর নিজস্ব সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে আবেদন পদ্ধতিতে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। সেই পোর্টালের মাধ্যমেই ঘরে বসে আবেদন করা, নথি আপলোড এবং আবেদনপত্রের স্টেটাস ট্র্যাক করা যাবে। ফলে সরকারি অফিসে ঘুরে বেড়ানোর ঝক্কিও অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার, সরকার কবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের গাইডলাইন প্রকাশ করে এবং বাস্তবে কবে থেকে রাজ্যের বেকার যুবকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করে এই আর্থিক সহায়তা।







