মাধ্যমিক পাস হলেই পেতে পারেন ড্রোন পাইলটের চাকরি, মাসে লাখ টাকার ইনকাম, কীভাবে শুরু করবেন?

On: Tuesday, March 31, 2026 5:44 PM
---Advertisement---

দীর্ঘদিন ধরেই একটা ধারণা আমাদের সমাজে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে—উচ্চশিক্ষা না থাকলে ভাল আয়ের সুযোগও সীমিত। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বদলের এই সময়ে সেই ধারণা ভাঙছে একের পর এক নতুন পেশা। তার মধ্যে অন্যতম ড্রোন পাইলটিং। মাত্র কয়েক দিনের প্রশিক্ষণেই তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের রাস্তা, যেখানে মাসে কয়েক হাজার নয়, লক্ষাধিক টাকাও আয় করা সম্ভব।

ভারতে ড্রোন ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা নির্ধারণ করে Directorate General of Civil Aviation। ২০২১ সালের ড্রোন নীতির পর এই খাত আরও সংগঠিত হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ গ্রামের বেশি ওজনের প্রতিটি ড্রোনকে সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হয় এবং একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর নিতে হয়। পাশাপাশি, ড্রোন ওড়াতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন। তাত্ত্বিক জ্ঞান—যেমন আকাশসীমা, নিরাপত্তা ও নিয়ম—এর পাশাপাশি হাতে-কলমে উড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে পরীক্ষায় পাশ করলে পাওয়া যায় রিমোট পাইলট সার্টিফিকেট, যার বৈধতা ১০ বছর।

খরচের দিক থেকেও এই প্রশিক্ষণ খুব বেশি ব্যয়বহুল নয়। সাধারণত ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করা যায়। ফলে অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই এটি এখন সহজলভ্য একটি ক্যারিয়ার বিকল্প হয়ে উঠছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, এই প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় কতটা সম্ভব?
বাজার বলছে, সুযোগ কম নয়। বিয়ে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ড্রোন ফটোগ্রাফির চাহিদা এখন তুঙ্গে। একটি অনুষ্ঠানের জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করে কীটনাশক ছিটানোর কাজও দ্রুত বাড়ছে। প্রতি একর জমিতে কাজের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব, আর বড় জমিতে দিনে বহু একর কভার করলে সেই অঙ্ক দ্রুত বাড়ে।

এছাড়াও রিয়েল এস্টেট, চলচ্চিত্রের শুটিং, সার্ভে, ম্যাপিং বা সোলার প্ল্যান্ট পরিদর্শনের মতো কাজেও ড্রোন পাইলটদের চাহিদা বাড়ছে। সরকারি প্রকল্প এবং এগ্রি-টেক সংস্থাগুলিও নিয়মিত নিয়োগ করছে।

আয়ের হিসাব বলছে, নতুন কেউ এই পেশায় ঢুকলে মাসে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা রোজগার করতে পারে। কিছুটা অভিজ্ঞতা হলে সেই অঙ্ক ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় পৌঁছনো অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ দক্ষতা থাকলে বা বড় প্রকল্পে কাজ করলে মাসিক আয় লাখ টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অনেকে আবার নিজস্ব ড্রোন কিনে ব্যবসা শুরু করছেন। ভালো মানের একটি ড্রোন কিনতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে যোগাযোগ তৈরি—যেমন ওয়েডিং প্ল্যানার, কৃষক গোষ্ঠী বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার—এই পেশায় সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারও এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। উৎপাদনভিত্তিক প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প এবং কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি এই শিল্পকে আরও গতিশীল করছে। ফলে শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই ড্রোন এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, আয়ের নতুন মাধ্যম।

প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে যারা নতুন কিছু করতে চান, তাদের জন্য ড্রোন পাইলটিং এখন এক বাস্তবসম্মত ও দ্রুত বেড়ে ওঠা পেশা। শখের উড়ানই আজ অনেকের কাছে পেশার ডানা মেলেছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now