বিমানে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখতে হয় কেন? শুধুই নিয়ম নয়, জড়িয়ে আছে নিরাপত্তার বড় কারণ

On: Friday, May 1, 2026 11:02 PM
---Advertisement---

বিমানে উঠলেই প্রায় সবার কানে ভেসে আসে এক পরিচিত ঘোষণা—মোবাইল ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখুন। অনেকের কাছেই বিষয়টি নিছক আনুষ্ঠানিক নিয়ম মনে হলেও, এর পিছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত কারণ।

এয়ারপ্লেন মোড চালু করলেই ফোনের মোবাইল নেটওয়ার্ক, কলিং এবং ডেটা পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডিভাইসটি আর নিকটবর্তী টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে না। তবে প্রয়োজন হলে আলাদা করে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু করা যায়। অর্থাৎ, ফোন পুরোপুরি বন্ধ না করেও তার সিগন্যাল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিমানের ভেতরে একাধিক সংবেদনশীল ন্যাভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে, যা পাইলটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একসঙ্গে বহু যাত্রী তাদের ফোন সাধারণ মোডে রাখেন, তাহলে প্রতিটি ডিভাইসই ক্রমাগত সিগন্যাল খোঁজার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে তৈরি হতে পারে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইন্টারফেরেন্স, যা বিমানের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সামান্য হলেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিমানের প্রযুক্তি অনেক উন্নত এবং এই ধরনের ছোটখাটো ইন্টারফেরেন্স সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবুও বিমান সংস্থাগুলি কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ, আকাশপথে সামান্য ত্রুটিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই এয়ারপ্লেন মোডকে প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবেই দেখা হয়।

আরও একটি দিক রয়েছে। উড়ানের সময় ফোন মাটির একাধিক টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে, যা নেটওয়ার্ক সিস্টেমের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। এয়ারপ্লেন মোড চালু থাকলে এই সমস্যাও এড়ানো যায়।

বর্তমানে অনেক এয়ারলাইন্স ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই পরিষেবাও দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীরা এয়ারপ্লেন মোড অন রেখেই ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারেন। এই সংযোগ বিশেষ স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা বিমানের জন্য নিরাপদ বলেই ধরা হয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now