ভারতের WhatsApp ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে একটি প্রিমিয়াম পরিষেবা ঘিরে। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি নাকি ‘WhatsApp Plus’ নামে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানান প্রশ্ন উঠছে ইউজারদের মধ্যে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন পরিষেবাটি মোবাইল ও ওয়েব—দুই প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহার করা যাবে। এটি মূলত একটি প্রিমিয়াম ফিচার সেট, যেখানে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে মাসিক সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। তবে সাধারণ WhatsApp ব্যবহার আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, WhatsApp Plus-এর মাসিক খরচ ধরা হয়েছে ৭৯ টাকা। নতুন ইউজারদের জন্য এক মাসের ফ্রি ট্রায়ালও দেওয়া হচ্ছে। তবে ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর সাবস্ক্রিপশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিনিউ হতে পারে, ফলে ইউজারদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রিমিয়াম সংস্করণে কী কী সুবিধা মিলবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ইউজাররা নিজের পছন্দ অনুযায়ী থিম এবং অ্যাপ আইকনের ডিজাইন পরিবর্তন করতে পারবেন। পাশাপাশি থাকবে এক্সক্লুসিভ স্টিকার ও রিংটোনের সুবিধা, যা সাধারণ ব্যবহারকারীরা পাবেন না।
চ্যাট ম্যানেজমেন্টেও আসছে কিছু পরিবর্তন। গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট পিন করার সীমা বাড়ানো, এবং চ্যাট লিস্ট আরও সহজভাবে সাজানোর সুবিধা থাকবে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে যারা অফিসিয়াল বা একাধিক গ্রুপ একসঙ্গে পরিচালনা করেন, তাঁদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে।
সাবস্ক্রিপশন চালুর প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ। WhatsApp অ্যাপ খুলে সেটিংসের মধ্যে গিয়ে সাবস্ক্রিপশন অপশন থেকে WhatsApp Plus নির্বাচন করে ট্রায়াল শুরু করা যাবে বলে জানা গেছে।
তবে এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। WhatsApp-এর মূল সংস্থা Meta Platforms সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ফিচার উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করছে। অ্যাপে ইতিমধ্যেই Meta AI ফিচার যুক্ত হয়েছে, যা পরিচালনার জন্য বিপুল পরিকাঠামোগত খরচ প্রয়োজন। সেই খরচ সামাল দিতে এবং নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতেই এই ধরনের প্রিমিয়াম পরিষেবা আনা হচ্ছে বলে প্রযুক্তি মহলের একাংশের মত।
তবে এখনও পর্যন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে এই পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট নয়। ফলে WhatsApp Plus নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনই কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়ে গেছে।







