পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার আবহে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর হরমুজ় প্রণালী ফের খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভারতের বাণিজ্য মহলে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে তেল-গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আগের জায়গায় ফিরতে পারে— এমনটাই মনে করছে রফতানিকারকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজ়েশনস (এফআইইও)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে রাজি হয়েছে। এই জলপথ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করে, যার ওপর নির্ভর করে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ।
ভারতের ক্ষেত্রে এই পথের গুরুত্ব আরও বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়েই আসত। কাতার থেকে আমদানি হওয়া গ্যাসের বড় অংশও এই রুটের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সংঘাতের জেরে সেই সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে, যার প্রভাব পড়ে জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।
এফআইইও-র বক্তব্য, সমুদ্রপথ স্বাভাবিক হলে পণ্য পরিবহণের খরচ কমবে এবং বিমার অতিরিক্ত চাপও কিছুটা লাঘব হবে। সংঘর্ষের সময়ে জাহাজ চলাচলে বিলম্ব ও খরচ বৃদ্ধির কারণে রফতানিকারকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
সংস্থার সভাপতি এসসি রালহান বলেন, “যুদ্ধবিরতির ঘোষণা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পশ্চিম এশিয়া ভারতীয় রফতানিকারকদের একটি প্রধান বাজার। ২০২৪-২৫ সালে ওই অঞ্চলে ভারতের বাণিজ্যের অঙ্ক ছিল ১৭৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। রফতানি ৫৬৮৭ কোটি ডলার এবং আমদানি ১২১৬৭ কোটি ডলার।”
তিনি আরও জানান, গত এক মাসে পণ্য পরিবহণে ব্যাপক সমস্যা হয়েছে। শুধু পেট্রোলিয়াম নয়, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, চাল, ওষুধ ও গয়নার ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় রফতানিকারকদের চাপ বেড়েছে।
অন্য দিকে, তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক আশাবাদী বাজার। ইন্ডিয়ান অয়েল ডিলার্স ফোরামের সভাপতি জন মুখোপাধ্যায় বলেন, “হরমুজ় প্রণালী খুলে যাওয়ায় আমাদের দেশে তেল এবং গ্যাসের জোগান বৃদ্ধি পাবে। তবে এত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না, কিন্তু সময় দিলে অবশ্যই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে এই পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হবে বলেই আমরা মনে করছি।”
তবে আশার পাশাপাশি রয়েছে অনিশ্চয়তাও। কারণ এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক। পরিস্থিতি ফের খারাপ হলে আবারও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— হরমুজ় খুললে কি রান্নার গ্যাস পাওয়া আবার আগের মতো সহজ হবে? আপাতত তার স্পষ্ট উত্তর নেই। তবে পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।





