কলকাতা থেকে শহরতলি—যাতায়াতে দ্রুত বদল আনছে বৈদ্যুতিন স্কুটার। পেট্রোলের বাড়তি খরচ এড়াতে অনেকেই ঝুঁকছেন ব্যাটারিচালিত দু’চাকার দিকে। কিন্তু তাড়াহুড়োয় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেক ক্রেতাই পরে সমস্যায় পড়ছেন বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ই-স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্যাটারি। সংস্থাগুলির দাবি থাকে একবার চার্জে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার চলবে গাড়ি। তবে বাস্তবে সেই পরিসংখ্যান খুব কম ক্ষেত্রেই মেলে। যানজট, রাস্তাঘাটের অবস্থা, স্কুটারে যাত্রীসংখ্যা কিংবা ব্রেকের ব্যবহার—সব মিলিয়ে রেঞ্জ অনেকটাই কমে যেতে পারে। ব্যাটারির ক্ষমতা অনুযায়ী স্কুটারের পারফরম্যান্স বদলে যায়। সাধারণ মডেলে তুলনামূলক কম দূরত্ব পেরোনোর সুবিধা থাকলেও, বেশি রেঞ্জ পেতে হলে খরচ বাড়ে। কারণ, সে ক্ষেত্রে শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।
চার্জিং-ও একটি বড় বিষয়। একটি ই-স্কুটারের ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হতে সাধারণত চার থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। শহরের সব জায়গায় এখনও চার্জিং স্টেশন সহজলভ্য নয়। তাই কেনার আগে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা আছে কি না, তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাড়িতে আলাদা চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্কুটারের গতি নির্ভর করে মোটরের উপর। শহরের জন্য ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতির মডেল যথেষ্ট। সমতল রাস্তায় ২৫০ ওয়াট মোটরেই কাজ চলে যায়, কিন্তু বেশি শক্তি চাইলে ওয়াটের পরিমাণও বাড়াতে হবে। নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ডিস্ক ব্রেক, ভালো সাসপেনশন ও টায়ার—এসব বিষয় এড়িয়ে গেলে চলবে না। বিশেষ করে জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন এলাকায় স্কুটারের ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ক্ষমতা কেমন, সেটাও জেনে নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ হল ব্যাটারি। তাই অন্তত ৩ থেকে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি থাকা স্কুটার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একইসঙ্গে বাড়ির কাছে সার্ভিস সেন্টার আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। আইনি নিয়মও মাথায় রাখা জরুরি। ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গতির স্কুটারের জন্য লাইসেন্স লাগে না। কিন্তু তার বেশি গতির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।






