৫৫ ইঞ্চি স্মার্টটিভি বিক্রি হয় ৩০ হাজারে, ছোট স্ক্রিনের আইফোনের দাম লাখ টাকা পেরোয় কেন? কী কারণে এত ফারাক

On: Saturday, September 12, 2026 10:43 PM
---Advertisement---

৫৫ ইঞ্চির স্মার্টটিভি মিলছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যেই। অথচ আকারে অনেক ছোট একটি আইফোন কিনতেই খরচ হচ্ছে এক লক্ষ টাকার বেশি। একই ধরনের ভোক্তা প্রযুক্তির পণ্যে দামের এত বড় ফারাক কেন? প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এর পিছনে রয়েছে দুই ধরনের সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবসায়িক মডেল এবং সাম্প্রতিক কাঁচামালের বাজারে তৈরি হওয়া চাপ।

একটা সময় ৪২ ইঞ্চির টেলিভিশনও ছিল অনেকের নাগালের বাইরে। বড় স্ক্রিনের টিভি মানেই ছিল মোটা অঙ্কের খরচ। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা বদলেছে। এখন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যেই ৫৫ ইঞ্চির ফ্ল্যাট স্ক্রিন স্মার্টটিভি পাওয়া যাচ্ছে। অনেক মডেলেই থাকছে এলইডি ডিসপ্লে, আরজিবি প্রযুক্তি, ফোরকে রেজোলিউশন এবং ১৪৪ হার্ৎজ় রিফ্রেশ রেটের মতো ফিচার।

শুধু হার্ডওয়্যার বিক্রি করেই টিভি নির্মাতাদের আয় শেষ হয়ে যাচ্ছে না। স্মার্টটিভির ক্ষেত্রে এমন কিছু প্রযুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে বিক্রির পরেও নির্মাতার আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এর মধ্যে অন্যতম অটোমেটিক কনটেন্ট রেকগনিশন বা এসিআর প্রযুক্তি।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে টেলিভিশনে কোন ধরনের অনুষ্ঠান বা কনটেন্ট দেখা হচ্ছে এবং কতক্ষণ দেখা হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি টিভিতে গেম খেলা হলেও তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকে। ফলে ব্যবহারকারীর দেখার অভ্যাস সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করতে পারে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা সংস্থা।

এই ধরনের তথ্য বিজ্ঞাপন এবং কনটেন্ট সংক্রান্ত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ টিভি বিক্রি হওয়ার পরেও ব্যবহারকারীর কনটেন্ট ব্যবহারের তথ্য থেকে পরোক্ষ ভাবে আয় করার সুযোগ থাকে নির্মাতাদের। ফলে টেলিভিশনের মূল হার্ডওয়্যারের দাম তুলনামূলক কম রাখার ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত আয়ের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে আবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। ফোন বিক্রি হওয়ার পর টিভির মতো একই ধরনের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ডেটা আয়ের মডেল সব নির্মাতার ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলির দামও চাপ তৈরি করছে।

বিশেষ করে কৃত্রিম মেধা বা এআই পরিষেবার দ্রুত প্রসারের ফলে ডেটা সেন্টারগুলিতে বিপুল পরিমাণ মেমরি ও স্টোরেজের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ওএআই বা ক্লডের মতো এআই পরিষেবা সংস্থাগুলির পরিকাঠামোর জন্য প্রচুর পরিমাণে মেমরি এবং স্টোরেজ প্রয়োজন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায়।

স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্সের মতো বড় মেমরি নির্মাতারা এআই পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করছে। ফলে মেমরি চিপের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্মার্টফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান র‌্যাম ও স্টোরেজের দামে।

ফলে একদিকে টেলিভিশনের ক্ষেত্রে বড় স্ক্রিন ও উন্নত প্রযুক্তি তুলনামূলক কম দামে পৌঁছে যাচ্ছে, অন্যদিকে স্মার্টফোনে ছোট ডিসপ্লে থাকা সত্ত্বেও প্রসেসর, মেমরি, স্টোরেজ, ক্যামেরা, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য উপাদানের খরচ যোগ হচ্ছে। তার সঙ্গে কাঁচামালের বাজারে তৈরি হওয়া চাপও যুক্ত হচ্ছে।

তাই শুধু ডিসপ্লের আকার দিয়ে টিভি এবং আইফোনের দামের তুলনা করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। টিভির ক্ষেত্রে বিক্রির পরেও সম্ভাব্য আয় এবং স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক হার্ডওয়্যার ও মেমরি উপাদানের খরচ, দুই মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে এই বড় দামের ফারাক।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now