বাড়ি বা গাড়ি কেনার স্বপ্ন এখন অনেকটাই সহজলভ্য—ব্যাঙ্ক ঋণের সুবিধায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পরেই শুরু হয় আসল লড়াই—প্রতি মাসে EMI মেটানো। আর সেখানেই অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়েন আর্থিক চাপে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকি এড়াতে একটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি—‘৩০% রুল’।
কী এই ৩০% রুল?
এই নিয়ম খুবই সরল। আপনার মাসিক মোট আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশই EMI হিসেবে খরচ করা উচিত। অর্থাৎ, মাসে যদি ₹১ লক্ষ আয় হয়, তাহলে সব মিলিয়ে ঋণের কিস্তি ₹৩০ হাজারের বেশি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এর মধ্যে পড়বে হোম লোন, গাড়ির ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এমনকি ক্রেডিট কার্ডের বকেয়াও।
কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে এই নিয়ম?
কারণ মাসিক আয় শুধু EMI দেওয়ার জন্য নয়। সংসারের নিত্য খরচ, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, বিমা এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয়—সব কিছুর জন্যই অর্থ দরকার। ৩০% সীমার মধ্যে থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতেও আর্থিক স্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হয়।
সীমা ছাড়ালে কী হতে পারে?
অনেকেই শুরুতে ৩৫-৪০ শতাংশ EMI নিয়েও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু হঠাৎ চিকিৎসার খরচ, চাকরির অনিশ্চয়তা বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সেই বাড়তি চাপ বড় সমস্যায় পরিণত হয়। ফলে সঞ্চয় বন্ধ হয়ে যায়, বিনিয়োগ থমকে দাঁড়ায়—দীর্ঘমেয়াদে যা ক্ষতিকর।
কখন একটু বেশি EMI নেওয়া যায়?
কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। যেমন, কর্মজীবনের শুরুতে থাকলে এবং ভবিষ্যতে আয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে সামান্য বেশি EMI নেওয়া যেতে পারে। আবার যাদের পারিবারিক দায়িত্ব কম, তারাও কিছুটা ঝুঁকি নিতে পারেন। তবে পরিবারের দায়িত্ব থাকলে এই সীমা না ছাড়ানোই নিরাপদ।
ব্যাঙ্ক যত দেবে, তত নেবেন না
অনেক সময় ব্যাঙ্ক আপনার আয়ের ভিত্তিতে বেশি ঋণ অনুমোদন করে। কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, EMI দেওয়ার পরেও যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন ও সঞ্চয় বজায় থাকে—সেই হিসেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নিরাপদ EMI জোন কোনটি?
২০%–৩০%: সবচেয়ে নিরাপদ
৩০%–৪০%: সতর্ক থাকা দরকার
৪০%-এর বেশি: উচ্চ ঝুঁকি
সব মিলিয়ে, ঋণ নেওয়ার আগে একটু হিসেব করাই ভবিষ্যতের বড় সমস্যাকে এড়াতে পারে। EMI যেন স্বপ্নপূরণের সঙ্গী হয়, বোঝা নয়—সেই ভারসাম্য রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।







