আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে দেশের রান্নাঘরে। ইরান ও আমেরিকা-র মধ্যে চলমান পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া এলপিজি সংকট ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এতদিন দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা হলেও, শেষমেশ বড়সড় বৃদ্ধির পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।
সম্প্রতি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১,০০০ টাকা বাড়ানোর পর এবার সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ছোট ৫ কেজির সিলিন্ডারেও লাগল আগুন। শনিবার থেকে এই সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৬১ টাকা। ফলে নিম্নবিত্ত ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
নতুন দামে, লখনউ-এ ৫ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৮৫.৫০ টাকা। সেখানে ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা। অর্থাৎ দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান এখন মাত্র ৩১ টাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ছোট সিলিন্ডারের ব্যবহার কতটা সাশ্রয়ী রইল?
হিসাব বলছে, প্রতি কেজি হিসেবে এই ছোট সিলিন্ডারের দাম অনেকটাই বেশি পড়ছে। যেখানে বড় সিলিন্ডারে প্রতি কেজির খরচ প্রায় ৬৪ টাকার মতো, সেখানে ছোট সিলিন্ডারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৬ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি খরচ পড়ছে।
এই ছোট সিলিন্ডার মূলত শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী এবং শহরে একা থাকা কর্মজীবীদের জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি তাঁদের বাজেটে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। নির্মাণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রের তরফেও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, “যখন বিশ্ববাজারে দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে, তখন কোনও দেশই এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত, এলপিজির পর এবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেল সংস্থাগুলির লোকসান বেড়েই চলেছে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম বাড়ানো হয়, তা হলে প্রতি লিটারে ২৫ থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে বলে অনুমান।







