পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PPF দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সরকারি প্রকল্প। নিরাপদ বিনিয়োগ, কর ছাড় এবং নিশ্চিত সুদের সুবিধার কারণে বহু মানুষ এই প্রকল্পে টাকা রাখেন। তবে ১৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড থাকায় অনেকেরই প্রশ্ন, জরুরি পরিস্থিতিতে কি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা সম্ভব?
নিয়ম বলছে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তা সম্ভব হলেও তার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে।
PPF অ্যাকাউন্ট সময়ের আগেই সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চাইলে অন্তত পাঁচটি আর্থিক বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে শুধুমাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই এই অনুমতি দেওয়া হয়। যেমন, অ্যাকাউন্টধারী বা তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান কিংবা বাবা-মায়ের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, নিজের বা সন্তানের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে হলে অথবা অ্যাকাউন্টধারী বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে প্রি-ম্যাচিওর ক্লোজারের আবেদন করা যায়।
তবে এই সুবিধা নিলে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে প্রাপ্য সুদের উপর ১ শতাংশ হারে কাটতি করা হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত হাতে পাওয়া অর্থ কিছুটা কমে যাবে।
যাঁদের পুরো টাকার প্রয়োজন নেই, তাঁদের জন্য রয়েছে আংশিক টাকা তোলার সুযোগ। অ্যাকাউন্ট খোলার পাঁচ বছর পর থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পার্শিয়াল উইথড্রয়াল করা যায়। যোগ্য ব্যালেন্সের সর্বাধিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তোলা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে কোনও সুদের কাটতি বা জরিমানা দিতে হয় না। অবশিষ্ট অর্থ আগের মতোই অ্যাকাউন্টে থেকে যায় এবং তার উপর নিয়ম অনুযায়ী সুদও জমতে থাকে।
শুধু টাকা তোলাই নয়, PPF অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে শুরু থেকেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। অ্যাকাউন্ট খোলার তৃতীয় আর্থিক বছর থেকে ষষ্ঠ আর্থিক বছরের মধ্যে ঋণের জন্য আবেদন করা যায়।
ঋণের পরিমাণও নির্দিষ্ট নিয়মে নির্ধারিত হয়। আবেদন করার বছরের দুই বছর আগে অ্যাকাউন্টে যত টাকা ছিল, তার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য PPF এখনও অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রকল্প। তবে জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলা বা ঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলি ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এতে যেমন অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে, তেমনই প্রয়োজনের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।






