ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকেই এমন একটি বিকল্প খোঁজেন, যেখানে ঝুঁকি কম এবং রিটার্ন তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত। সেই কারণেই এখনও সাধারণ মানুষের কাছে পোস্ট অফিসের বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প যথেষ্ট জনপ্রিয়।
এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট (আরডি) স্কিম। নিয়মিত অল্প অঙ্কের টাকা জমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি উল্লেখযোগ্য তহবিল গড়ে তোলার সুযোগ দেয় এই প্রকল্প। বিশেষ করে যাঁরা মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয় করতে চান, তাঁদের জন্য এটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
পোস্ট অফিসের আরডি স্কিমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করতে হয়। স্কিমটির মেয়াদ পাঁচ বছর। নির্ধারিত সময় শেষে জমা অর্থের সঙ্গে সুদ যোগ হয়ে গ্রাহক এককালীন একটি বড় অঙ্কের টাকা পান।
বর্তমান সুদের হারের ভিত্তিতে হিসাব করলে, কেউ যদি প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে জমা করেন, তাহলে পাঁচ বছরে তাঁর মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৯০,০০০ টাকা। মেয়াদ শেষে সুদ-সহ সেই অর্থ প্রায় ১.০৭ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
একইভাবে, মাসে ১,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করলে পাঁচ বছরে মোট জমার পরিমাণ হবে ৬০,০০০ টাকা। সুদ যোগ হওয়ার পর ম্যাচিউরিটির সময় প্রায় ৭১,০০০ টাকার তহবিল হাতে পাওয়া সম্ভব।
এই প্রকল্পের আরেকটি বড় সুবিধা হল, খুব কম অঙ্ক দিয়েও বিনিয়োগ শুরু করা যায়। গয়া ডাক বিভাগের সিনিয়র পোস্টমাস্টার অংশুমান জানিয়েছেন, “মাত্র ১০০ টাকা দিয়েও এই স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব। জমাকৃত অর্থ পাঁচ বছর পরে ম্যাচিউর হয়।”
অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত সহজ। দেশের যে কোনও পোস্ট অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে আরডি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। গ্রাহক চাইলে একক বা যৌথ— দুই ধরনের অ্যাকাউন্টই খুলতে পারেন।
বাজারের ওঠানামা বা শেয়ারবাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে যাঁরা ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে চান, তাঁদের কাছে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট এখনও অন্যতম নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিয়মিত সামান্য সঞ্চয়ই যে কয়েক বছরের মধ্যে বড় তহবিলে পরিণত হতে পারে, এই প্রকল্প তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।







