অনেকেই পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য এমন একটি বিনিয়োগের খোঁজ করেন, যেখানে ঝুঁকি কম এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের সুযোগ থাকে। সেই দিক থেকে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিম একটি জনপ্রিয় বিকল্প। বিশেষ করে স্ত্রীর নামে এই অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা করলে পাঁচ বছর পর একটি উল্লেখযোগ্য তহবিল তৈরি করা সম্ভব।
পোস্ট অফিসের RD হল একটি সরকারি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প। এখানে এককালীন বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। বরং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করেই ধাপে ধাপে সঞ্চয় বাড়ানো যায়। এই প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর বা ৬০ মাস। মাত্র ১০০ টাকা দিয়েই বিনিয়োগ শুরু করা যায় এবং সর্বোচ্চ জমার ক্ষেত্রে কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই।
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি স্ত্রীর নামে একটি RD অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতি মাসে ৮,০০০ টাকা করে জমা করছেন। সে ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে মোট জমার পরিমাণ হবে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রচলিত সুদের হার অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে এই টাকার পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র সুদ হিসেবেই প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুদের হার সময়ে সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রকৃত রিটার্নও সেই অনুযায়ী বদলাতে পারে।
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা। প্রতি তিন মাস অন্তর সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে শুধু জমা টাকার উপর নয়, আগের সুদের উপরও সুদ গণনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত সঞ্চয়ের ফলে এই ব্যবস্থাই তহবিলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
স্ত্রীর নামে RD অ্যাকাউন্ট খোলার আরও কিছু সুবিধাও রয়েছে। পরিবারের জন্য আলাদা সঞ্চয় গড়ে তোলা যায়, ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে একটি নির্ভরযোগ্য তহবিল তৈরি হয় এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসও গড়ে ওঠে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ঋণের সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুযোগও রয়েছে।
যাঁরা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে ধাপে ধাপে সঞ্চয় বাড়াতে চান, তাঁদের কাছে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট স্কিম একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ সুদের হার এবং প্রযোজ্য নিয়ম অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।






