মোবাইল রিচার্জের খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন প্ল্যানে সবচেয়ে বেশি সুবিধা মিলছে, তা নিয়ে গ্রাহকদের আগ্রহও বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ মেয়াদের ভ্যালিডিটি এবং 5G ডেটা ব্যবহারকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কারণেই নজরে এসেছে রিলায়েন্স জিও-র ৬২৯ টাকার এবং এয়ারটেলের ৬৪৯ টাকার দুটি জনপ্রিয় প্রিপেড প্ল্যান।
দুটি প্ল্যানের মধ্যেই বেশ কিছু মিল রয়েছে। জিও এবং এয়ারটেল— উভয় সংস্থাই ৫৬ দিনের ভ্যালিডিটি দিচ্ছে। প্রতিদিন ২ জিবি হাই-স্পিড ডেটা, আনলিমিটেড ভয়েস কলিং এবং ১০০টি করে দৈনিক এসএমএস-ও থাকছে দুই প্ল্যানেই।
তবে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে 5G পরিষেবা এবং অতিরিক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে। জিওর ৬২৯ টাকার প্ল্যানে গ্রাহকরা আনলিমিটেড 5G ডেটা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। সংস্থার দাবি, এই ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট ডেটা সীমা নেই। অন্য দিকে এয়ারটেলের 5G পরিষেবা ব্যবহার করা গেলেও সেখানে ফেয়ার ইউসেজ পলিসি (FUP) হিসেবে ৩০০ জিবি পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জিওর প্ল্যানের অন্যতম আকর্ষণ Google Gemini Pro-এর বিনামূল্যের অ্যাক্সেস। পাশাপাশি তিন মাসের জন্য JioHotstar সাবস্ক্রিপশন এবং ৫০ জিবি জিও এআই ক্লাউড স্টোরেজও দেওয়া হচ্ছে। Gemini Pro পরিষেবার সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।
এয়ারটেল অবশ্য অন্য পথে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ৬৪৯ টাকার প্ল্যানে গ্রাহকরা Adobe Express Premium-এর সাবস্ক্রিপশন পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রতি ৩০ দিনে একটি বিনামূল্যের হ্যালো টিউন এবং স্প্যাম কল ও স্প্যাম এসএমএস শনাক্ত ও ব্লক করার সুবিধাও থাকছে।
ফলে কোন প্ল্যান বেছে নেবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের উপর। যাঁরা বেশি 5G ডেটা ব্যবহার করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরিষেবায় আগ্রহী, তাঁদের কাছে জিওর প্ল্যান বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। অন্য দিকে কনটেন্ট তৈরি, ডিজাইন বা অতিরিক্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত সুবিধাকে গুরুত্ব দিলে এয়ারটেলের প্ল্যানও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
মাত্র ২০ টাকার ব্যবধানে দুই সংস্থার অফার আলাদা ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। তাই রিচার্জের আগে নিজের ব্যবহার ও প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেই মিলতে পারে সবচেয়ে লাভজনক প্ল্যান।






